Narendra Modi:

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:“কৃষকদের অধিকার রক্ষা করব, সিন্ডিকেট ভেঙে দেব”—ভোটের মুখে তীব্র বার্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi)! পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ ক্রমশ চড়ছে। এই মুহূর্তে ভোট রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে কৃষক সমাজ। শাসক ও বিরোধী—দুই পক্ষই গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ক দখলে মরিয়া, আর সেই লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে কৃষি ও কৃষকের আর্থিক সুরক্ষা। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আলুচাষিদের পাশে থাকার বার্তা জোরদার করেছেন। রবিবার একাধিক জনসভা থেকে তিনি ঘোষণা করেন, আলুর সহায়ক মূল্য বাড়িয়ে প্রতি কুইন্টাল ৯৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ছোট আকারের আলুর জন্য ৩০ শতাংশ জমি সংরক্ষণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, চলতি বছরে আলুর ফলন যথেষ্ট ভালো হয়েছে এবং রাজ্যের বাইরে ফসল বিক্রিতে কোনও প্রশাসনিক বাধা নেই। শস্যবিমার আওতায় আলুচাষিদের আনার কথাও জানান তিনি, যাতে ফসলহানির ক্ষেত্রে আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। ভবিষ্যতে কৃষিক্ষেত্রকে আরও সংগঠিত করতে আলাদা কৃষি বাজেট আনার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/04/19/abhishek-banerjee-nandigram-speech-bjp-attack-west-bengal-election/

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী Narendra Modi) বাংলার কৃষকদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের মান্ডিগুলিতে ‘সিন্ডিকেট রাজ’ কৃষকদের স্বার্থে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তা ভেঙে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। ধানচাষিদের জন্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) ৩১০০ টাকা নির্ধারণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পে বার্ষিক অনুদান ৬০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০০০ টাকা করার কথাও ঘোষণা করেন।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole

রাজনৈতিক আক্রমণ আরও তীব্র করে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, ২০১৪ সালের আগে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় MSP তুলনামূলকভাবে কম ছিল, যা বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার বহুগুণ বাড়িয়েছে। একইসঙ্গে ওড়িশা ও ছত্তীসগড়ের মতো বাংলার জনজাতি সম্প্রদায়ের উন্নয়নের আশ্বাস দেন তিনি। কেন্দুপাতা ও শালপাতা সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত শ্রমজীবীদের আর্থিক উন্নয়নেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান।

প্রথম দফার ভোটের আগে রাজ্যজুড়ে এখন প্রচারের তুঙ্গে উত্তাপ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চার জেলায় বিস্তৃত মেগা প্রচার চালাচ্ছেন। তাঁর পাশাপাশি সক্রিয় রয়েছেন জে পি নাড্ডা ও রাজনাথ সিং-এর মতো কেন্দ্রীয় নেতারা। পাল্টা প্রচারে পিছিয়ে নেই তৃণমূল কংগ্রেসও। সাগর থেকে নন্দীগ্রাম পর্যন্ত সভা করে জনসংযোগ বাড়াচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

সব মিলিয়ে, গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ককে কেন্দ্র করে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই। নির্বাচনের আগে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ কোনও পক্ষই—ফলে বাংলার রাজনৈতিক আবহ ক্রমেই উত্তপ্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠছে।