নিউজপোল ব্যুরো: পুলিশের চোখে ধুলো দিতে ১৫ দিনে অন্তত সাত-সাতবার আস্তানা বদলে ভূভারত ঘুরেছিলেন বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সীর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। এবার গ্রেফতারির ঠিক ৩৫ দিনের মাথায় বারাসত আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে বিশাল চার্জশিট পেশ করল বিধাননগর কমিশনারেটের গঠিত ৮ সদস্যের সিট (SIT)। আর চার্জশিট জমা পড়ার সাথে সাথেই প্রকাশ্যে চলে এল দেবরাজের বিরুদ্ধে আরও এক মারাত্মক নতুন তোলাবাজির অভিযোগ!
সূত্রের খবর, পেশ হওয়া প্রায় ১৫০ পাতার এই চার্জশিটে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা BNS-এর ১১১ নম্বর ধারাসহ একাধিক কড়া ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এতে সিন্ডিকেট চালানো, ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় ও তোলাবাজির বিস্ফোরক প্রমাণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়। ইতিমধ্যে ১১ জন প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান নথিবদ্ধ করা হয়েছে। তবে আইনি চাপ এখানেই শেষ নয়, ঠিক এই আবহেই বাগুইআটি থানায় দেবরাজের নামে ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার নতুন তোলাবাজির এফআইআর ঠুকলেন লিলুয়ার এক ব্যবসায়ী।
অভিযোগ, ভিআইপি রোডের ধারে একটি পুরনো বিল্ডিং থেকে লোহা কেনার বরাত পেয়েছিলেন ওই ব্যবসায়ী। কিন্তু কাজ শুরু করতেই আসরে নামে দেবরাজের অনুগামীরা। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা তোলা না দিলে এক ছটাক লোহাও সরাতে দেওয়া হবে না। প্রাণভয়ে ব্যবসায়ী দুই দফায় ৫০ লক্ষ টাকা মিটিয়েও দেন। কিন্তু বাকি টাকা দিতে একটু দেরি হতেই বন্ধ করে দেওয়া হয় কাজ, আসতে থাকে একের পর এক হুমকি ফোন। বাধ্য হয়েই প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই ব্যবসায়ী। বাড়ি থেকে বাজেয়াপ্ত মোবাইল-ল্যাপটপ আর থরে থরে সাজানো প্রমাণের ওপর দাঁড়িয়ে এবার আদালতে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরুর আবেদন জানাচ্ছে পুলিশ। সব মিলিয়ে, দিন যত গড়াচ্ছে, অদিতির স্বামীর বিরুদ্ধে ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ থেকে ততই যেন বেরিয়ে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য।
