নিউজ পোল বাংলা: মনিপুরে কুকি-মেতেই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়ঙ্কর অশান্তি দেখেছে গোটা দেশ। যে ঘটনা নিয়ে এখনও উত্তাল উত্তরপূর্বের রাজ্য। কিন্তু এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনায় মৃত দুই ফুটফুটে মেয়েই এক করে দিয়েছে দুই সম্প্রদায়কে। আহমেদাবাদে বিমান দুর্ঘটনায় কবলে পরা বিমানে ছিলেন মণিপুরের দুই কন্যা নগান্থোই শর্মা এবং ল্যামনুন্থেম সিংসন। একজন কুকি আর আরেকজন ছিলেন মেতেই সম্প্রদায়ের। তাঁদের এই অকাল মৃত্যুতে বিবাদ ভুলে মন ভারি হয়েছে গোটা মণিপুরের মানুষের। ১২ জুন আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত এয়ার ইন্ডিয়ার কেবিন ক্রু (Air India Crew Member) ল্যামনুন্থেম সিংসনের মরদেহ বৃহস্পতিবার রাতে মণিপুরের কাংপোকপি জেলায় তার নিজ শহরে পৌঁছায়। নাগাল্যান্ডের ডিমাপুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বাড়িতে।
ইন্ডিগোর একটি বিমানে আহমেদাবাদ থেকে ডিমাপুরে কেবিন ক্রুর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় এবং বিমানবন্দরে পরিবারের সদস্য, তাঁর সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং অফিসাররা তাঁকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেন। ডিমাপুর থেকে সড়কপথে কাংপোকপি যাওয়ার পথে, নাগাল্যান্ডের রাজধানীতে কয়েক মিনিটের জন্য কনভয়টি থেমেছিল। সেখানেই একরত্তি মেয়েকে শ্রদ্ধা জানান সকলে। হাজার হাজার শহরবাসী তাদের সাহসী কন্যাকে সম্মান জানাতে রাস্তায় সারিবদ্ধ হয়ে দারান। ল্যামনুন্থেম সিংসনের আত্মার শান্তি কামনায় রাস্তায় মানববন্ধন, মোমবাতি মিছিলও করা হয়। শোক, নীরবতা এবং মোমবাতির আলোয় ভরা এক রাতে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় ল্যামনুন্থেম সিংসনকে। ল্যামনুন্থেম সিংসনকে স্নেহে নিওনু নামে ডাকা হত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাংপোকপিতে বাড়িতে ফিরে তার কফিনবন্দি দেহ।
যুবক-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ, বন্ধু-বান্ধব, অপরিচিত সকলেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মোমবাতি হাতে। নীরব শ্রদ্ধাঞ্জলি যা অন্ধকার রাতকে ভালোবাসা ও শোকে আলোকিত করেছিল। ল্যামনুন্থেম সিংসনকে বিমানে করে নিয়ে আসার পর প্রার্থনার মাধ্যমে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁর কফিনের উপর ঐতিহ্যবাহী শাল জড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার ল্যামনুন্থেম সিংসনের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। সন্ধ্যার সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা গিয়েছে এদিন যখন মেয়ের প্রাণহীন দেহের কফিনের পাশে অশ্রুসিক্তভাবে বসে ছিলেন সিংসনের মা ও কাছের সঙ্গী। শোকে আচ্ছন্ন কাংপোকপি তার প্রিয় কন্যাকে শেষ বিদায় জানাবে আজ শুক্রবার। স্থানীয়রা বলছেন তাঁদের মেয়ের স্মৃতি চিরকাল জনগণের হৃদয়ে খোদাই হয়ে থাকবে। পারিবারিক সূত্র অনুসারে, সিংসনের প্রথমে অভিশপ্ত বিমানে সফরের কথাই ছিল না এই বিমান সেবিকার (Air India Crew Member)। তিনি অসুস্থ এবং ছুটিতে থাকা একজন সহকর্মীকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে গিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধন্তই যে এই বিপদ ডেকে আনবে তা ভুলেও ভাবেননি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
