নিউজ পোল ব্যুরো:২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের অন্তিম পর্যায়ে রাজনৈতিক আবহ ক্রমশ তীব্রতর হয়ে উঠেছে। শেষ দফার ভোটের আগে শেষ রবিবারকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবির উভয়েই সর্বশক্তি দিয়ে প্রচারে ঝাঁপিয়েছে। এই আবহে উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে মতুয়া মহাসংঘের পুণ্যভূমিতে আয়োজিত জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা তুলে ধরেন। মতুয়া ও নমশূদ্র সম্প্রদায়ের আবেগকে সামনে রেখে তিনি দাবি করেন, প্রথম দফার ভোটেই পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে শরণার্থী ও উদ্বাস্তু সমস্যার স্থায়ী সমাধানের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। তিনি জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকার উল্লেখ করে বলেন, দেশভাগের সময় পূর্ববাংলা থেকে আগত শরণার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ঐতিহাসিক। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার শরণার্থীদের নাগরিকত্ব ও অধিকার সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই প্রসঙ্গে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)-এর উল্লেখ করে তিনি আশ্বাস দেন, উপযুক্ত আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব প্রদান এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিশ্চিত করা হবে।
ভাষণের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর আদর্শ থেকে সরে এসে বর্তমান সরকার দুর্নীতি, কাটমানি ও সিন্ডিকেটরাজকে প্রশ্রয় দিয়েছে। তাঁর দাবি, প্রশাসনিক কাঠামো জনস্বার্থ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়েছে। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, গণতান্ত্রিক উপায়ে এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে।
বক্তৃতার শেষে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শ স্মরণ করে তিনি বলেন, একটি ভোটই পরিবর্তনের শক্তি হয়ে উঠতে পারে, যা বাংলাকে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
ঠাকুরনগরের সভার পর হুগলির হরিপালে আয়োজিত জনসভাতেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) একইভাবে শাসক দলের বিরুদ্ধে আক্রমণ জারি রাখেন। সেখানে তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিয়োগ দুর্নীতি, কয়লা ও গরু পাচারের মতো একাধিক ইস্যু উঠে আসে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসন কার্যত দলীয় স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে এবং ন্যায়বিচারের জন্য মানুষকে বারবার আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে বাধা এবং প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে আদালতের কড়া অবস্থান রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি প্রশাসনিক ব্যর্থতারই প্রতিফলন।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের হিংসার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি আরও দাবি করেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার উপর আস্থা না থাকায় আদালতকে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিতে হয়েছিল, যা সরকারের নৈতিক গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
সমগ্র ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আত্মবিশ্বাসের সুরে দাবি করেন, বাংলার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে এবং বিজেপির প্রতি সমর্থন ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে এই জনসভাগুলির রাজনৈতিক তাৎপর্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত মতুয়া ভোটব্যাঙ্ককে কেন্দ্র করে এই বার্তাগুলির প্রভাব এখনই নজরে রাখার মতো।
