নিউজ পোল ব্যুরো:রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬–এর অন্তিম লগ্নে এসে নদিয়ার মাটিতে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি করলেন। রবিবার তেহট্ট ও রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে পরপর দু’টি জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, প্রথম দফার ভোটের ফলাফলেই কার্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-র নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন অনিবার্য। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে ১১০টিরও বেশি আসনে ভারতীয় জনতা পার্টি এককভাবে এগিয়ে রয়েছে এবং দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণেই সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত হবে।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/04/26/modi-thakurnagar-matua-caa-west-bengal-election-2026/
এদিনের সভাগুলিতে অমিত শাহ বিশেষভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং অনুপ্রবেশের ইস্যুকে সামনে এনে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মতুয়া ও নমশূদ্র সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি অভিযোগ করেন, সুপরিকল্পিতভাবে বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে আগামী ৫ তারিখের পর প্রত্যেক বৈধ নাগরিকের নাম যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। রানাঘাটের মতুয়া অধ্যুষিত অঞ্চলে এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
এসআইআর (Special Intensive Revision) ইস্যুতে রাজ্য সরকারের আপত্তির প্রেক্ষিতে শাহ আরও কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে তাঁর অবস্থান দৃঢ় এবং অপরিবর্তিত। তাঁর দাবি, বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। একই সঙ্গে তিনি ‘অনুপ্রবেশমুক্ত বাংলা’ গড়ে তোলার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, মতুয়া সমাজের নাগরিকত্ব সুরক্ষা বিজেপির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এই প্রসঙ্গে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে অযথা আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি সরকার গঠিত হলে মতুয়া ও নমশূদ্র পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে আইনসম্মত নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে এবং তাদের অধিকার সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত থাকবে।
সার্বিকভাবে, নদিয়ার এই জোড়া জনসভা থেকে অমিত শাহ কেবল রাজনৈতিক আক্রমণের মাত্রাই বাড়াননি, বরং প্রান্তিক ও প্রভাবশালী ভোটব্যাঙ্ককে লক্ষ্য করে কৌশলগত বার্তা প্রদান করেছেন। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির সংগঠনগত ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করার প্রচেষ্টাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত।
