নিউজ পোল ব্যুরো:আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার মহকুমায় ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। রবিবার মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি এবং ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট-এর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। একইসঙ্গে তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত ঘটান।
সভামঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) দাবি করেন, সম্প্রতি একটি হোটেলে বিজেপি প্রার্থী ও নির্বাচন-সম্পর্কিত কিছু ব্যক্তির উপস্থিতিতে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার ভিডিওচিত্র ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত মেলে, প্রশাসনিক স্তরে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচিত হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি পরোক্ষে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিটি স্তরেই তাঁর সংগঠনের নজরদারি সক্রিয় রয়েছে।
ডায়মন্ড হারবার মহকুমায় সাম্প্রতিক পুলিশ প্রশাসনিক রদবদল নিয়েও তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, তদন্তের অগ্রগতিতে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নাম উঠে আসায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বদলি করা হয়েছে। তবে এই পদক্ষেপে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি বা নির্বাচনী ফলাফলে কোনও প্রভাব পড়বে না বলেই তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
এদিনের ভাষণে নওশাদ সিদ্দিকীকে নিশানা করে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট-কে ‘বিজেপির পরোক্ষ সহায়ক শক্তি’ হিসেবে আখ্যা দেন তিনি। নন্দীগ্রামসহ বিভিন্ন আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আইএসএফ-এর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। পাশাপাশি ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রের উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, আসন্ন নির্বাচনে ওই কেন্দ্রে বিজেপি ও আইএসএফ—উভয় শিবিরেরই ভরাডুবি অনিবার্য।
সভায় মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী সামিম আহমেদকে দীর্ঘদিনের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে তুলে ধরে বিপুল ভোটে জয়ী করার আহ্বান জানান তিনি। সর্বোপরি, ভোটের প্রাক্কালে মগরাহাটের জনসভা থেকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে ধারালো রাজনৈতিক কৌশল স্পষ্ট করে দিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব নির্বাচনী লড়াইকে আরও তীব্রতর করার বার্তা দিয়েছে।
