নিউজ পোল ব্যুরো:আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই আবহে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থনে কলকাতায় নির্বাচনী প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক তীব্র আক্রমণ শানালেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal)।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/04/26/secret-meeting-controversy-abhishek-banerjee-warning-bjp-isf/
বেলেঘাটা এলাকায় তৃণমূল প্রার্থী কুনাল ঘোষের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিরোধী ঐক্যের বার্তা দেন।
জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal)। তাঁর বক্তব্য, “এখানকার মানুষ কি সবাই জঙ্গি বা সন্ত্রাসবাদী, যে এত সাঁজোয়া গাড়ি ও বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে?” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পাশাপাশি ভোটার তালিকা নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেন তিনি। কেজরিওয়ালের অভিযোগ, “লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা গণতন্ত্রকে দুর্বল করার পরিকল্পিত চেষ্টা।”
তিনি আরও বলেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে নাগরিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তাঁর মতে, এই নির্বাচন শুধুমাত্র সরকার গঠনের লড়াই নয়, বরং গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করে কেজরিওয়াল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, বিরোধী দলগুলিকে চাপে রাখতেই এই কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলিকেও তিনি “মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে বিজেপির জনপ্রিয়তা কমছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাকে প্রশংসা করে কেজরিওয়াল বলেন, তিনি মানুষের কাছে পৌঁছে ধারাবাহিকভাবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। সভামঞ্চে বাংলায় কথা বলার চেষ্টা করে তিনি বলেন, “আমি অল্প অল্প বাংলা বলতে পারি।” এই মন্তব্যে উপস্থিত জনতার মধ্যে উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
সবশেষে কেজরিওয়াল এক তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন— “বিজেপি যদি পরাজিত হয়, তাহলে কি নরেন্দ্র মোদী ইস্তফা দেবেন?” তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের মুখে কেজরিওয়ালের এই আক্রমণাত্মক বক্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন উত্তাপ যোগ করতে পারে।
