নিউজ পোল ব্যুরো:আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ যখন ক্রমশ তুঙ্গে, তখন দক্ষিণ কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে এক জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন। জনসভায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, প্রথম দফার মতো দ্বিতীয় দফার ভোটেও শতাধিক আসনে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে তাঁর দল।
সর্বধর্ম সমন্বয় ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল কখনও ভেদাভেদের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তাঁর দাবি, বিজেপি ধর্মীয় মেরুকরণের মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে, যা রাজ্যের ঐতিহ্যের পরিপন্থী।
কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক স্তরে পরিকল্পিত রদবদল করা হচ্ছে এবং রাজ্যের গণতান্ত্রিক কাঠামোতে বহিরাগত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিজেপি নেতৃত্বের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেন, কলকাতাকে ‘বস্তির শহর’ বলে যেভাবে অপমান করা হয়েছে, তা বাংলার মানুষের আত্মসম্মানে আঘাত করেছে। তাঁর বক্তব্য, এই রাজ্যে প্রতিটি নাগরিক, বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষের মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
অর্থনৈতিক নীতির প্রসঙ্গেও কেন্দ্রকে নিশানা করেন তিনি। পণ্য ও পরিষেবা কর ব্যবস্থার সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এর মাধ্যমে রাজ্যের আর্থিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, অথচ রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের কল্যাণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে। স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে এসএসকেএম হাসপাতালের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি জানান, স্বল্প খরচে উন্নত চিকিৎসা প্রদানই রাজ্যের অন্যতম অগ্রাধিকার।
নিরাপত্তা ও নির্বাচন ব্যবস্থাকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী পহেলগাঁও হামলার সময় কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিষয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভ্রাট সৃষ্টি করে ইভিএমে কারচুপির সম্ভাবনা নিয়ে ষড়যন্ত্র হতে পারে, তাই দলীয় কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাসের সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথম দফার ভোটে ইতিমধ্যেই ‘শতক’ পূর্ণ হয়েছে এবং দ্বিতীয় তথা শেষ দফাতেও সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি হবে।
উল্লেখ্য, একই দিনে উত্তর কলকাতায় প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির পাল্টা হিসেবে দক্ষিণ কলকাতার এই জনসভা কার্যত রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত হয়। পরিশেষে ভোটারদের উদ্দেশে তিনি গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সচেতন থাকার আহ্বান জানান এবং ভোটার স্লিপ সংরক্ষণের গুরুত্বও স্মরণ করিয়ে দেন। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াই যেমন আরও তীব্র হচ্ছে, তেমনই জনমত গঠনের প্রতিযোগিতাও ক্রমেই তীব্র আকার নিচ্ছে।
