নিউজ পোল ব্যুরো: নীলাঙ্কুশ আচার্য বাংলার এক গর্বের নাম। উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহের এই ভূমিপুত্র (Stanford University Rating) আবারও প্রমাণ করলেন প্রতিভা কখনও পরিকাঠামো বা বড় প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের উপর নির্ভর করে না। আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি (Stanford University) যে বিশ্বের সেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীদের (Top 2% Scientists) তালিকা তৈরি করে, তাতে এবার দেশের মধ্যে দ্বিতীয় এবং বিশ্বের ৩৫তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই তালিকায় সাধারণত নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বা গবেষকরা জায়গা পান। সেখানে নীলাঙ্কুশ ব্যতিক্রমএকজন স্কুলশিক্ষক (School Teacher) হয়েও স্বনামধন্য গবেষকদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তিনি দাঁড়িয়েছেন।
আরও পড়ুন:Weather Update : পুজোর মুখে ফের দাপাদাপি বৃষ্টি! জোড়া নিম্নচাপের পূর্বাভাস দিল হাওয়া অফিস
বারাকপুরের উমাশশী হাই স্কুলের অঙ্কের শিক্ষক নীলাঙ্কুশের গবেষণার বিষয় ন্যানোফ্লুইড (Nanofluid Research)। এটি এমন এক তরল যেখানে ১০০ ন্যানোমিটারেরও কম আকৃতির কঠিন কণা থাকে। আধুনিক ফ্লুইড মেকানিক্সের (Fluid Mechanics) এই বিশেষ শাখার প্রয়োগ রয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং (Engineering) এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে (Medical Science)। সেই জটিল প্রবাহ এবং তার প্রয়োগ নিয়েই বহু আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্র (Research Papers) প্রকাশ করেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই তাঁর ৬০টি গবেষণাপত্র ও তিনটি বইয়ের অধ্যায় (Book Chapters) আন্তর্জাতিক স্তরে প্রকাশিত হয়েছে। কেবল প্রকাশনাই নয়, সম্মানও পেয়েছেন তিনি। ইউরোপের নামকরা পদার্থবিদ্যার জার্নাল ইপিজেপি (Eur. Phys. J.) তাঁকে গত বছর বিশ্বের ৫০ জন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে Distinguished Referee হিসেবে সম্মানিত করে। ২০২৪ সালে বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় তিনি ছিলেন ৪০তম স্থানে। আর এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে ৩৫তম। তাঁর যাত্রাপথের গ্রাফ দেখলেই বোঝা যায় কীভাবে উন্নতি করেছেন তিনি—২০২০ সালে র্যাঙ্ক ছিল ২৪৪৩, ২০২১ সালে ৪৮৫, ২০২২ সালে ২১৪, ২০২৩ সালে ৭৪ এবং অবশেষে ২০২৫ সালে ৩৫।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
অত্যন্ত সাধারণ পরিবারের সন্তান নীলাঙ্কুশ কৃষ্ণনগর দেবনাথ হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক, কবি বিজয়লাল হাই স্কুল ইনস্টিটিউট থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, কৃষ্ণনগর সরকারি কলেজ থেকে অঙ্কে স্নাতক এবং রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ থেকে অ্যাপ্লায়েড ম্যাথামেটিক্স (Applied Mathematics) এ এমএসসি করেন। পরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। মা ছিলেন তাঁর পড়াশোনার অনুপ্রেরণা, যদিও ২০২০ সালে তিনি ক্যানসারে মারা যান। ২০১১ সাল থেকে শিক্ষকতায় যোগ দিয়ে আজও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন নীলাঙ্কুশ।
স্ট্যানফোর্ডের তালিকা (Stanford Ranking) তৈরি হয় গবেষণাপত্রের উদ্ধৃতি (Citation), প্রভাব এবং ক্ষেত্রবিশেষে অবদানের উপর ভিত্তি করে। আর সেই মাপকাঠিতে এগিয়ে গিয়েই বিশ্ববিজ্ঞানমঞ্চে নতুন ইতিহাস লিখলেন এই মফস্বলের শিক্ষক-গবেষক (Independent Researcher)। বাংলার গর্ব হয়ে আজ তিনি প্রমাণ করলেন—অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনও সীমাবদ্ধতাই অতিক্রম করা সম্ভব।
