রাসপূর্ণিমা, দেব দীপাবলী- গুরু নানকের জন্মদিন-তিথির মাহাত্ম্যই আলাদা

দেশ পেজ 3 রাজ্য শহর

নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ রাস পূর্ণিমা বা কার্তিক পূর্ণিমা। হিন্দুধর্মাবলম্বীদের কাছে যা একটি পবিত্র তিথি বলে মনে করা হয়। এই একই তিথিতে ৪টি উৎসবের এমন সমাহার সচরাচর দেখা যায় না। বৃন্দাবন, মথুরা, নবদ্বীপ, মায়াপুর এমনকি প্রতিবেশি বাংলাদেশেও মহাসমারোহে পালিত হয় রাস উৎসব। আবার পঞ্জাব সহ ভারতের নানা প্রান্তের গুরুদ্বারে পালন করা হচ্ছে শিখ ধর্মের প্রবর্তক গুরু নানকদেবের ৫৫৫তম জন্মবার্ষিকী। এই উপলক্ষে প্রতিবছর কলকাতার রাস্তায় ধর্মীয় মিছিলও বের করা হয়। আবার এদিনই দেব দীপাবলী। এই উপলক্ষে সন্ধেবেলায় প্রদীপের আলোয় গঙ্গার ঘাট সাজিয়ে তোলা হয় হরিদ্বার ও বেনারসে। কার্তিক পূর্ণিমার পুণ্যলগ্নে মোক্ষলাভের আশায় গঙ্গার ঘাটে ঘাটে নামে ভক্তদের ঢল। ২০১৮ সাল থেকে কলকাতার গঙ্গার ঘাটেও প্রদীপের আলোয় সজ্জিত করার চল শুরু হয়েছে। এই উপলক্ষে আজ সন্ধ্যায় বাবুঘাট ও বাজা কদমতলা ঘাটে আয়োজন করা হয়েছে এক উৎসবের। অসংখ্য ভক্তদের জনসমাগমে মুখরিত হয়ে উঠবে গঙ্গার ঘাটে। এই উপলক্ষে সতর্কতা হিসেবে চক্ররেলের বেশ কিছু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।

কার্তিক মাসের পূর্ণিমাই রাসপূর্ণিমা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে এই দিন বৃন্দাবনের গোপিনীদের নিয়ে রাধার সঙ্গে রাস উৎসবে মেতেছিলেন গোপশ্রেষ্ঠ শ্রীকৃষ্ণ। গোপিনীদের নাচ ও শ্রীকৃষ্ণের সুমধুর বংশীধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছিল বৃন্দাবনের পবিত্রভূমি। পরবর্তীকালে শ্রীরাধা ও শ্রীকৃষ্ণের এই মিলন উৎসবকে শ্রীচৈতন্যদেব নাম-সংকীর্তনের মধ্যে দিয়ে রাস মহোৎসবে পরিণত করেন। শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন, কেউ যদি তাঁকে জানতে চায়, তবে তাঁকে অবশ্যই ভক্তির আশ্রয়ে থাকতে হবে। এই দিনে তাই বৈষ্ণব ভক্তরা তাঁদের ঈশ্বরের সঙ্গে মিলিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় মেতে ওঠেন রাসলীলার মাধ্যমে।

অপরদিকে, মণিপুরের বাসিন্দাদের কাছে রাস একটি প্রধান ধর্মীয় নৃত্য-গীতের উৎসব। শ্রীবিষ্ণু ও শিব ভক্তরাও এদিন মন্দিরে গিয়ে তাঁদের উপাস্য দেবতার পুজো করে থাকেন। পুণ্য অর্জনের জন্য সকাল সকাল নদীতে স্নান করেন। মন্দিরে বাতি বা প্রদীপ জ্বালান, দুঃস্থদের দান-ধ্যান করেন।

এছাড়াও এই একই দিনে কলকাতায় পরেশনাথের মন্দির থেকে জৈন ধর্মাবলম্বীদের একটি বিরাট দর্শনীয় মিছিল বের করা হয়।পদ্ম, স্কন্দ, ব্রহ্ম পুরাণে কার্তিক পূর্ণিমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে কার্তিক পূর্ণিমার দিনে শ্রী হরি বিষ্ণু মৎস্য অবতারে জলে অবস্থান করেন। এই অবস্থায় যারা এই দিনে গঙ্গা স্নান করেন তাঁরা অমৃতের সমান গুণ লাভ করেন।এই দিনে স্নান, সত্যব্রত, বিষ্ণু ও দেবী লক্ষ্মীর পুজো এবং দান করার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।

তথ্যসূত্র সংগৃহীত ও পরিমার্জিত।