Basanti Puja: দেড়শো বছরের ঐতিহ্যপূর্ণ এই বাসন্তী পূজা

জেলা রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার নদীয়াড়া গ্রামে প্রতি বছর মহাসমারোহে পালিত হয় ঐতিহ্যবাহী বাসন্তী পুজো (Basanti Puja)। এই পুজো গ্রামবাসীদের কাছে শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এক দীর্ঘদিনের সংস্কৃতির অঙ্গ হয়ে উঠেছে। প্রায় দেড়শো বছর আগে এক বিধ্বংসী বসন্ত রোগের মহামারী(Smallpox Epidemic) থেকে মুক্তির আশায় এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। তখন থেকে আজ পর্যন্ত নিরবিচারে ভক্তি ও আচার-বিধির অনুসরণে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এই পূজা। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, প্রায় দেড়শো বছর আগে নদীয়াড়া গ্রাম ও তার আশপাশের অঞ্চলে মারাত্মক বসন্ত রোগ ছড়িয়ে পড়ে। বহু মানুষের মৃত্যু ঘটে। এরপর আতঙ্কে গ্রাম ছেড়ে পালাতে শুরু করেন অনেকে। এমন পরিস্থিতিতে একদল গ্রামবাসী বাসন্তী দেবীর স্বপ্নাদেশ পান এবং একইসঙ্গে এক সন্ন্যাসী বাবা (Sage) পরামর্শ দেন গ্রামে বিশেষ আচার-বিধি মেনে বাসন্তী মায়ের পুজো করার। এরপর গ্রামের মাঝে শুরু হয় বাসন্তী পূজার আয়োজন (Basanti Puja Celebration), আর দেবীর কৃপায় ধীরে ধীরে কমতে থাকে মহামারীর প্রকোপ। রোগমুক্ত হয়ে গ্রামবাসীরা পুনরায় গ্রামে ফিরে আসেন এবং তখন থেকেই এই পূজাকে ধারা হিসেবে বজায় রাখা হয়।

আরও পড়ুন:- GI Tag: বাংলার ঐতিহ্য কি বিশ্বকে জয় করতে চলেছে? দেখুন তালিকা

নদীয়াড়া গ্রামের বাসন্তী পূজা সপ্তমী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত চারদিন ধরে অনুষ্ঠিত হয়। এই পূজার সময় গ্রামজুড়ে এক বিশেষ ধরনের পবিত্র পরিবেশ তৈরি হয়। নিরামিষ আহারের নিয়ম:পুজোর চারদিন গ্রামের কেউই আমিষ খাদ্য(Non-Vegetarian Food) গ্রহণ করেন না। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন: এই চারদিন ধরে গ্রামে নানা ধরনের গ্রামীণ যাত্রাপালা (Folk Theatre), ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠান (Devotional Music Program) এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান (Cultural Events) অনুষ্ঠিত হয়। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড়: শুধু পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে নয়, প্রতিবছর ভিন জেলা (Other Districts) ও ভিন রাজ্য (Other States) থেকেও অসংখ্য ভক্ত ও পর্যটক এই পুজো দেখার জন্য নদীয়াড়া গ্রামে আসেন। গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, শুদ্ধ মনে বাসন্তী দেবীর (Basanti puja) আরাধনা (Pure Devotion to Goddess Basanti) করলে সকল ইচ্ছা পূরণ হয়। তাই শুধু স্থানীয় বাসিন্দারা নয়, বিভিন্ন জেলা ও রাজ্য থেকে মানুষ এসে মনস্কামনা পূরণের আশায় (Wish Fulfillment) মায়ের চরণে পুজো নিবেদন করেন।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

চারদিনব্যাপী এই মহোৎসব (Basanti Puja) নদীয়াড়া গ্রামকে একেবারে উৎসবমুখর চেহারা দেয়। পুজোর সময় গ্রামে প্রবেশ করলেই দেখা যায় সারি সারি আলোকসজ্জা (Lighting Decorations), ধূপ-ধুনোর গন্ধ (Incense Aroma) ও ঢাকের বাজনা (Dhak Drumming), যা এক অপূর্ব পরিবেশ তৈরি করে। পুজোর প্রতিটি দিন গ্রাম্য পরিবেশের সঙ্গে ধর্মীয় ভাবাবেগের মেলবন্ধন সৃষ্টি করে, যা দর্শকদের আকৃষ্ট করে। প্রতিবছর নদীয়াড়া গ্রামের বাসন্তী পুজো শুধুমাত্র ভক্তদের ধর্মীয় উৎসাহ নয়, বরং এক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনস্থল হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রাচীনকালে বসন্ত মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শুরু হওয়া এই পুজো আজও মানুষের শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক। ভবিষ্যতেও এই পুজো একইভাবে চলতে থাকবে, এই আশায় দিন গোনেন নদীয়াড়া গ্রামের মানুষ।