নিউজ পোল ব্যুরো:বাংলার নির্বাচনী রাজনীতির ভরকেন্দ্র ভবানীপুরকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত এবার চরম আকার ধারণ করল। গত বৃহস্পতিবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নপত্র পেশ ঘিরে যে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তাকে নিছক বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রবিবার মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ ও ফরাক্কার জোড়া জনসভা থেকে তিনি এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত হামলা’ হিসেবে অভিহিত করে সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিজেপি নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, রাজনীতির নামে বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসে এলাকায় চরম অশান্তি পাকিয়েছে গেরুয়া শিবির। তাঁর ব্যক্তিগত বাসভবনের সামনে কুৎসিত আচরণ, পোস্টারে থুতু নিক্ষেপ এমনকি পাড়ার কালী মন্দিরের সামনে জুতো প্রদর্শন করে যে ধর্মীয় ও সামাজিক অবমাননা করা হয়েছে, তাকে ‘অভব্যতার চরম সীমা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। স্থানীয় মানুষের প্রতিরোধের কথা উল্লেখ করে তৃণমূল নেত্রী স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন যে, এই ঘটনাকে তিনি কেবল রাজনৈতিক বিবাদ নয়, বরং বাংলার সংস্কৃতির ওপর বহিরাগত আঘাত হিসেবেই দেখছেন।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/04/05/tmc-star-campaigners-list-2026-anubrata-mondal-dev-koel-mallick/
অন্যদিকে, ভবানীপুরের এই নজিরবিহীন গোলমালের জেরে প্রশাসনিক স্তরেও ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভর্ৎসনার মুখে পড়ার পর চার পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নজিরবিহীন নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতার দায়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লালবাজার ইতিমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে প্রায় ৪০ জনকে চিহ্নিত করে নোটিশ পাঠাতে শুরু করেছে। তবে কমিশনের এই অতিসক্রিয়তাকে মোটেই প্রসন্ন চিত্তে গ্রহণ করেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ফরাক্কার সভা থেকে তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে পুরসভার মতো সংস্থাও অগণতান্ত্রিকভাবে কমিশনের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে। বাংলার দক্ষ আধিকারিকদের ভিন রাজ্যে পাঠিয়ে বিজেপি-ঘনিষ্ঠদের বসানো হচ্ছে বলেও তিনি তোপ দাগেন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
বক্তব্যের শেষাংশে মুখ্যমন্ত্রী স্থানীয় আবেগ ও উন্নয়নের প্রশ্নে জোর দেন। ফরাক্কা অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা গঙ্গা ভাঙন নিয়ে কেন্দ্রের উদাসীনতাকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, ফরাক্কা ব্যারেজ কেন্দ্রের অধীন হওয়া সত্ত্বেও সঠিক সময়ে ড্রেজিং বা পলি সরানোর কাজ হয় না, যার ফলে প্রতি বছর সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে। রাজ্য সরকার সাধ্যমতো সাহায্য ও পার বাঁধানোর কাজ করলেও কেন্দ্রের তরফে কোনো সহযোগিতা মিলছে না বলে তাঁর দাবি। বিড়ি শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা ও সংখ্যালঘুদের কর্মসংস্থানের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি ভোটারদের মনে করিয়ে দেন যে, ২৯৪টি আসনেই মূলত তিনিই প্রার্থী। বাংলাকে বহিরাগতদের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে জোড়াফুল চিহ্নে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই লড়াই আসলে বাংলার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুরের ঘটনাকে ‘বহিরাগত তাণ্ডব’ হিসেবে তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী আসলে স্থানীয় ভাবাবেগকে উস্কে দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার কৌশলী চাল দিলেন।
