নিউজ পোল ব্যুরো: আদর্শ নির্বাচনী বিধি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই রাজ্যে একাধিক পুলিশ আধিকারিকের বদলি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমশ তীব্র হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) এই পদক্ষেপ নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। তাদের অভিযোগ, কমিশন নিরপেক্ষতার বদলে পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং নিজেদের পছন্দের আধিকারিকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হচ্ছে। এই ইস্যু ইতিমধ্যেই আদালতের দরজাও কড়া নেড়েছে। এবার সেই একই অভিযোগকে সামনে রেখে তৃণমূল নেতৃত্ব সরাসরি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়ালের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল (TMC)। তৃণমূলের (TMC) দাবি, ওই দুই জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিজেপির হয়ে কাজ করছে।
আরও পড়ুন: Amit Shah : কলকাতাকে ‘বসতির শহর’ বলে দমদমের সভা থেকে তৃণমূলকে তোপ অমিত শাহর
দলের তরফে শশী পাঁজা অভিযোগ করে জানান, তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উপর লাগাতার হেনস্তা ও ভয় দেখানোর ঘটনা ঘটছে (TMC)। তার কথায়, এলাকায় অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, অথচ পুলিশ নির্লিপ্ত। বরং বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হলে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে পুলিশের মধ্যে। ফলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবি তুলেছেন তিনি। একই সুর শোনা গিয়েছে তৃণমূল প্রার্থী শুভাশিস দাসের গলায় (TMC)। তার দাবি, মেদিনীপুরে অন্তত ৫০০ তৃণমূল কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার বা আটক করেছে, যা একতরফা পদক্ষেপ বলেই মনে করছে দল। প্রাক্তন নগরপাল ও বর্তমান রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমারও পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
এদিকে হুগলির হরিপালে এক জনসভা থেকে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করে বলেন, বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং রাজ্যের নিজস্ব পুলিশকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার অভিযোগ, বাইরে থেকে আনা বাহিনী ও কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়ে পরিস্থিতি প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি করেন, মেদিনীপুর জেলায় পরিকল্পিতভাবে অশান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে এবং কিছু জায়গায় ইচ্ছাকৃতভাবে পথ অবরোধ করা হচ্ছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
