নিউজ পোল ব্যুরো: ভোটের আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা ও ডায়মন্ড হারবার (Diamond Harbour) এলাকায় এক আইপিএস অফিসারকে (IPS Ajay Pal Sharma) ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চর্চা। কেউ তাকে ‘দাবাং’ বলছেন, কেউ আবার ‘সিংহম’ উপাধি দিচ্ছেন। সেই অফিসার অজয় পাল শর্মার (IPS Ajay Pal Sharma) কর্মকাণ্ড নিয়েই এবার আইনি লড়াই পৌঁছে গেল কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। তবে প্রথম ধাক্কাতেই সেই মামলা বিশেষ এগোতে পারল না। ঘটনার সূত্রপাত সোমবার। অভিযোগ, ফলতায় তৃণমূল নেতা তথা প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়ির সামনে গিয়ে অজয় পাল শর্মা (IPS Ajay Pal Sharma) সরাসরি সতর্কবার্তা দেন। তার বক্তব্য ছিল, ভোটারদের উপর কোনওরকম প্রভাব বা ভয় দেখানোর চেষ্টা করা চলবে না। এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয় প্রার্থীর পরিবারের সদস্যদের সামনেই। ঘটনাটির একটি ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media), যা ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক।
আরও পড়ুন: Election 2026: ভোটের ২৪ ঘণ্টা আগে ‘সিংহম’ বিতর্ক! অজয় পাল শর্মার ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তুঙ্গে রাজনীতি
এরপরই মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) দায়ের হয় মামলা। অভিযোগ তোলা হয়, ওই আইপিএস অফিসার (IPS Ajay Pal Sharma) নাকি নিজের সীমা ছাড়িয়ে গিয়ে প্রার্থী ও ভোটারদের হুমকি দিচ্ছেন। আবেদনকারীরা আদালতের কাছে তার ভূমিকা খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের দাবি জানান। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে বিষয়টি ওঠে। তবে আদালত এই মুহূর্তে কোনও পদক্ষেপ নিতে নারাজ। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দ্বিতীয় দফার ভোট অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের কাজে হস্তক্ষেপ করা হবে না। পাশাপাশি, মামলার প্রক্রিয়াগত কিছু ঘাটতি থাকায় সেদিন বিস্তারিত শুনানিও হয়নি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
এদিকে মাঠের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মঙ্গলবার সকালে। অজয় পাল শর্মা (IPS Ajay Pal Sharma) এলাকায় পরিদর্শনে গেলে জাহাঙ্গীর খানের কার্যালয় থেকে তার সমর্থকেরা বেরিয়ে এসে স্লোগান দিতে শুরু করেন। যদিও আইপিএস অফিসারের (IPS Ajay Pal Sharma) গাড়ি এগিয়ে যায়, তার কনভয়ের পেছনে থাকা সিআরপিএফের কয়েকটি গাড়ি আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ফলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুরো ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। কেউ বলছেন কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ, আবার কেউ দেখছেন ‘অতিরিক্ত সক্রিয়তা’। ভোটের মুখে এই ঘটনা যে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।
