নিউজ পোল ব্যুরো: দু’দফার ভোটপর্ব শেষ হতেই রাজ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আরও কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোথায় কোথায় পুনর্নির্বাচন প্রয়োজন, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে (Subrata Gupta)। সাধারণত ভোটের পরের দিন স্ক্রুটিনির কাজ দফতরেই সম্পন্ন হয়, কিন্তু এবারের পরিস্থিতিতে ময়দানে নেমে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সকালে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Election Commission)। দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট নেন তিনি। পাশাপাশি যেসব বুথ থেকে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেখানে দ্রুত গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই সক্রিয়তায় স্পষ্ট, অভিযোগগুলিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রথম দফার ভোটে তেমন বড় অভিযোগ না উঠলেও দ্বিতীয় দফা শেষ হতেই একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। মোট ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি উঠেছে, যার সবকটিই দক্ষিণ ২৪ পরগনার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে ফলতা কেন্দ্র থেকে সংখ্যা ৩২। ডায়মন্ডহারবারে ২৯টি, মগরাহাটে ১৩টি এবং বজবজে ৩টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে ইভিএমে (EVM) টেপ লাগিয়ে দেওয়া, মেশিনে সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার করে কারচুপি করার চেষ্টা, এমনকি বুথের সিসিটিভি ক্যামেরা ঢেকে দেওয়ার মতো ঘটনাও। এর পাশাপাশি আরও একটি বিস্ফোরক অভিযোগ কমিশনের কাছে জমা পড়ে, যেখানে দাবি করা হয় ভোটারদের অজান্তে তাদের পোশাকে স্পাই ক্যামেরা রাখা হয়েছিল, যাতে বোঝা যায় তারা কাকে ভোট দিচ্ছেন। এই অভিযোগ ডায়মন্ডহারবারের মগরাহাট পশ্চিম এলাকা থেকে এসেছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত আজ সংশ্লিষ্ট বুথগুলিতে পরিদর্শনে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে থাকবেন অন্যান্য পর্যবেক্ষকরাও। প্রতিটি অভিযোগ সরেজমিনে খতিয়ে দেখার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী শুক্রবার সংশ্লিষ্ট বুথগুলিতে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
