নিউজ পোল ব্যুরো:ভরতপুরে ‘বাবরি’ মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ঘিরে গোটা মুর্শিদাবাদ উত্তপ্ত। তৃণমূলের বহিষ্কৃত নেতা এবং ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir Babri foundation stone) পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি করেছে নতুন সঙ্কট, নতুন সমীকরণ। সংহতি দিবসের দিন বেলডাঙায় ‘বাবরি’ নামে মসজিদের শিলান্যাস করে তিনি যখন দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিলেন, তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল বড় বিতর্কের ইঙ্গিত। তৃণমূল তাঁকে আজীবন বহিষ্কার করলেও হুমায়ুন নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন। কিন্তু ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চিত্রনাট্যে বড় মোড়—বিধায়ক পদ ছাড়ছেন না বলে ঘোষণা করলেন তিনি।
শনিবার পর্যন্ত হুমায়ুনের বক্তব্য ছিল, দলীয় নির্দেশ অমান্য করার দায় নিজের কাঁধে নিয়ে তিনি ভরতপুরের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিতে প্রস্তুত। কিন্তু রবিবার রেজিনগরে শিলান্যাসস্থল পরিদর্শনে গিয়ে আচমকাই পাল্টে গেল সেই সিদ্ধান্ত। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি-দাওয়ার কথা তুলে ধরে হুমায়ুন জানান—“ভরতপুরের মানুষ চান আমি তাঁদের পাশে থাকি। তাঁদের নানা কাজে আমার প্রয়োজন আছে। তাই জনগণের স্বার্থেই আমি বিধায়ক পদে থাকছি।”
এই ঘোষণার পরই ভরতপুর-রেজিনগর এলাকায় তৈরি হয় নতুন রাজনৈতিক আলোড়ন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, হুমায়ুনের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে তিনি নিজের শক্ত ঘাঁটি ভরতপুর ছাড়তে চান না। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, রাজনৈতিক সুবিধাবাদ থেকেই এই ইউ-টার্ন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir Babri foundation stone) সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক ভাঙে ১৭ নভেম্বর, যখন তিনি নিজের দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিধায়ক পদ ছাড়ার ঘোষণা করেন। এরপর ‘বাবরি’ শিলান্যাসে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা তৃণমূলের কাছে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়। ৩ ডিসেম্বর দল তাঁকে আজীবন সাসপেন্ড করে। কিন্তু দলবহিষ্কারের পরও হুমায়ুন সুর নরম করেননি। সংহতি দিবসে শিলান্যাস অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে জেলাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।
রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই এদিন হুমায়ুন আরও একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেন। কলকাতার ব্রিগেডে আরএসএস-ঘনিষ্ঠ সনাতন সংস্কৃতি পরিষদের আয়োজিত ‘৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’-এর পাল্টা হিসেবে তিনি ঘোষণা করেন—“২৬ তারিখের আগেই মুর্শিদাবাদে লক্ষ কণ্ঠে কোরানপাঠ হবে।”
তাঁর এই মন্তব্যে সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ।
কুণালের দাবি—“গীতাপাঠের আমরা বিরোধী নই। গীতা আমাদের হৃদয়ে, আমাদের সংস্কৃতি। কিন্তু গীতাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হলে তার বিরোধিতা করব। হুমায়ুন বাবরি মসজিদের নামে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের চেষ্টা করেছেন। আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই।”
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, হুমায়ুনের এই আকস্মিক ইউ-টার্ন শুধু তৃণমূলেই নয়, সমগ্র জেলা রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। দলবহিষ্কৃত হয়েও ভরতপুরে নিজের প্রভাব বজায় রাখতে তিনি মরিয়া—এমনটাই মনে করছেন অনেকে। আবার কেউ কেউ বলছেন, তৃণমূল বা অন্য কোনও দল ভবিষ্যতে তাঁকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক খেলা সাজাতে পারে।
সব মিলিয়ে, ‘বাবরি’ শিলান্যাসের জেরে যে নয়া অস্থিরতা শুরু হয়েছে, হুমায়ুনের এই সিদ্ধান্ত তার আগুন আরও বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের বড় অংশ।
