নিউজপোল ব্যুরো: পাহাড়ি নদীর হঠাৎ ফুলে ওঠা জল মুহূর্তের মধ্যে বদলে দিয়েছে নেপালের ছবি। রাসুয়া-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ হড়পা বান ও ধসের জেরে প্রাণহানি বাড়ছে, বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়, নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন বহু ভারতীয় পর্যটক ও কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার তীর্থযাত্রী। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করাও কঠিন হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিকের হদিশ এখনও মেলেনি।
বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলার রাসুওয়াগাধি এলাকায় আচমকা ভয়াবহ বন্যা নামে। ভোতে কোশি নদীর জল প্রবল স্রোতে নীচের দিকে নেমে এসে রাস্তা, সেতু, বাড়িঘর এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় তিব্বতের দিকে যাওয়ার সীমান্তপথও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। প্রায় ৩৮৪ জন পর্যটক ও যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর সামনে আসে। তাঁদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালের নাগরিক বলে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য উদ্ধৃত করে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার জন্য বহু ভারতীয় তীর্থযাত্রী ওই এলাকায় পৌঁছেছিলেন। সীমান্ত পার হওয়ার আগেই তাঁদের একটি বড় অংশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কলকাতা থেকেও একটি ৩২ জনের দল সেখানে আটকে পড়েছে বলে খবর। তাঁদের মধ্যে ৩০ জন পর্যটক এবং দু’জন ট্যুর ম্যানেজার রয়েছেন। বুধবার সকালে সীমান্তের ইমিগ্রেশন এলাকায় পৌঁছনোর পর থেকেই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারও তৎপর হয়েছে। নেপালে থাকা বাংলার বাসিন্দা বা পর্যটকদের পরিবারের সদস্যরা যাতে দ্রুত তথ্য পেতে পারেন, তার জন্য রাজ্য পুলিশের সদর দফতরে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ না হলে নির্দিষ্ট নম্বরে ফোন করে তাঁর নাম, যাত্রার তথ্য এবং শেষ অবস্থান জানানো যেতে পারে। রাজ্যের জন্য প্রকাশিত হেল্পলাইন নম্বর হল ০৩৩-২৪৭৯৩৩১১ এবং ৯১৪৭৮৯০১৮১।
শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, ভারতীয় দূতাবাসও নেপালে আটকে পড়া ভারতীয়দের জন্য জরুরি নম্বর চালু করেছে। ভারতীয় দূতাবাসের নম্বর +৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭ এবং +৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০। পরিবারগুলিকে আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি হেল্পলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিপর্যয়ের কারণ নিয়েও চলছে বিশ্লেষণ। প্রাথমিক মূল্যায়নে হিমবাহ বা বরফ-পাথরের ধস থেকে নদীর উপনদীতে হঠাৎ জল ও ধ্বংসাবশেষ জমে যাওয়ার পর তা প্রবল স্রোতে নীচে নেমে আসার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। তবে পুরো ঘটনার কারণ নিয়ে তদন্ত ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এখনও চলছে।
পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উদ্ধারকারী দল দুর্গম এলাকায় পৌঁছনোর চেষ্টা করছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা এবং তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য পেতে সময় লাগছে। ফলে নেপালে থাকা প্রিয়জনদের নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবারগুলির এখন সবচেয়ে বড় ভরসা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম ও সরকারি হেল্পলাইন।
