নিউজপোল ব্যুরো: বিজেপির সংগঠনে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বদলের পর এবার কি নরেন্দ্র মোদির কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাতেও বড় রদবদল হতে চলেছে? সরকারি ভাবে এখনও কোনও ঘোষণা হয়নি। তবে দলের অন্দরের সাম্প্রতিক পরিবর্তন, কয়েকজন মন্ত্রীর মেয়াদ শেষ হওয়া এবং ভোটমুখী রাজ্যগুলির সমীকরণ ঘিরে মন্ত্রিসভা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ৬৯ জন সদস্য রয়েছেন। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, লোকসভায় মোট আসনের ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাখা যায়। সেই হিসাব ধরলে আরও কয়েকটি পদ পূরণের সুযোগ রয়েছে। ফলে নতুন মুখকে মন্ত্রিসভায় আনার পাশাপাশি কয়েকজন বর্তমান মন্ত্রীর দায়িত্ব বদল বা পুনর্বিন্যাস হতে পারে বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
সবচেয়ে বেশি নজর উত্তরপ্রদেশ ও গুজরাতের দিকে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই দুই রাজ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে পারে বিজেপি। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, কর্নাটক ও হিমাচলপ্রদেশ থেকেও নতুন মুখ উঠে আসতে পারেন বলে জল্পনা। তবে কোন রাজ্য থেকে কাকে মন্ত্রী করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিজেপির সংগঠনে সম্প্রতি একাধিক নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতির কারণে মন্ত্রিসভায় থাকা কয়েকজনের দায়িত্ব নিয়েও নতুন করে ভাবনাচিন্তা হতে পারে। সংগঠনের কাজে যাঁদের সামনে আনা হয়েছে, তাঁদের কেউ মন্ত্রিসভা থেকে সরে গিয়ে পুরোপুরি দলীয় দায়িত্ব সামলাবেন কি না, সেটিও এখন আলোচনার বিষয়।
বয়সের বিষয়টিও এবারের রদবদলে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের অনুমান। প্রবীণ নেতাদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তুলনামূলক কম বয়সি নেতাদের আরও বড় দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে। মহিলা প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়েও নজর রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ নিয়েও জল্পনা কম নয়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান বদলেছে—এমন দাবি ঘিরে দিল্লি থেকে কলকাতা, দুই জায়গাতেই আলোচনা চলছে। রাজ্য থেকে একাধিক সাংসদকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে। যদিও সম্ভাব্য নাম নিয়ে এখনও কোনও সরকারি নিশ্চয়তা নেই। শুধু বিজেপি নয়, এনডিএ-র শরিকদের নিয়েও হিসাব চলছে। মহারাষ্ট্র, পঞ্জাব কিংবা অন্য রাজ্যের শরিক দলগুলির কাউকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আনা হবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে সম্ভাব্য রদবদর শুধু মন্ত্রী বদলের বিষয় নয়, ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচন এবং তার আগে একাধিক রাজ্যের ভোটের কৌশলের সঙ্গেও জড়িত হতে পারে।
