Durgapuja 2026:জাঁকজমকের ভিড়ে আজও অমলিন সাবেকিয়ানা, মহিলাদের অনুমতিতে পুজোর সূচনা বহরমপুরের সেন বাড়ির দূর্গাপুজার নেপথ্যে কোন কাহিনী?

অন্য রকম পূজা

নিউজপোল ব্যুরো:   আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও বদলায়নি প্রাচীন রীতি। রথযাত্রায় কাঠামো পুজো থেকে মহালয়ায় প্রতিমার চক্ষুদান, প্রতিটি আচার মেনেই আজও দুর্গার আরাধনায় মেতে ওঠে বহরমপুরের সেন পরিবার। প্রায় দেড়শো বছরের ঐতিহ্যকে সঙ্গী করে এই বাড়ির দুর্গোৎসব আজও ধরে রেখেছে সাবেকিয়ানার স্বতন্ত্র পরিচয়।

জানা যায়, একসময় সেন পরিবারে জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রচলন ছিল। পরে ১৮৯৬ সালে অবিভক্ত বাংলার সাব জজ রাধাকৃষ্ণ সেন এই বাড়িতে দুর্গাপুজোর সূচনা করেন। সেই থেকেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে দেবী দুর্গার আরাধনা।

এই পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয় রথযাত্রার দিন কাঠামো পুজোর মাধ্যমে। এরপর প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হলেও ভাদ্র মাসে তা বন্ধ থাকে। আশ্বিন মাসে ফের শুরু হয় প্রতিমা নির্মাণ। মহালয়ার দিন প্রতিমার চক্ষুদানের মধ্য দিয়ে পূজার্চনার আবহ আরও গাঢ় হয়ে ওঠে।

সেন বাড়ির দুর্গোৎসবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য পরিবারের মহিলাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। তাঁদের অনুমতি নিয়েই পুজোর শুভ সূচনা হয়। বৈষ্ণব মতে পুজো হওয়ায় এখানে পশুবলির পরিবর্তে নবমীতে আখ ও চালকুমড়ো বলি দেওয়ার রীতি প্রচলিত। প্রাচীন আচার, পারিবারিক ঐতিহ্য আর সাবেকিয়ানার মেলবন্ধনেই আজও স্বতন্ত্র বহরমপুরের সেন বাড়ির দুর্গাপুজো।