নিউজপোল ব্যুরো: সময়ের সঙ্গে বদলেছে দুর্গাপুজোর উদযাপনের ধরন। কোথাও নজরকাড়া মণ্ডপ, কোথাও বাহারি আলোর খেলা, আবার কোথাও অভিনব থিমের চমক। এই পরিবর্তনের আবহে বোলপুরের দেবজিৎ সামন্ত বেছে নিয়েছেন এক ভিন্ন পথ। আধুনিকতার চাকচিক্যের বাইরে গিয়ে বাংলার প্রাচীন পটচিত্রের রঙে দেবী দুর্গাকে ফুটিয়ে তুলে লোকশিল্পের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগে পুজোর শিল্পভাবনার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে শিকড়ের টান।
বোলপুরের ইন্দ্রপল্লির বাসিন্দা দেবজিৎ সামন্তের কাছে শিল্প কেবল সৃষ্টির মাধ্যম নয়, বরং বাংলার ঐতিহ্যকে আগলে রাখারও এক প্রয়াস। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি তাঁর আগ্রহ। বর্তমানে বোলপুরের কল্পতরু আর্ট স্কুলের সঙ্গে যুক্ত এই শিল্পী গত তিন বছর ধরে পটচিত্রের নিজস্ব আঙ্গিককে সঙ্গী করে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলছেন দেবী দুর্গার রূপ। তাঁর হাতে তৈরি শিল্পকর্ম স্থানীয় পরিচিতি ছাড়িয়ে পৌঁছে গিয়েছে দেশের নানা প্রান্তে।
বাংলার লোকসংস্কৃতিতে পটচিত্রের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। পটুয়াদের আঁকা ছবিতে কখনও উঠে এসেছে পৌরাণিক আখ্যান, কখনও বা সমাজের নানা বাস্তব চিত্র। একসময় গ্রামবাংলার সাংস্কৃতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এই শিল্প। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে শিল্পের চাহিদা, কমেছে ঐতিহ্যবাহী পটচিত্রের কদর। নতুন প্রজন্মের কাছেও এই শিল্পের পরিচিতি অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পটচিত্রকে দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত করে নতুনভাবে তুলে ধরতে চাইছেন দেবজিৎ। তাঁর ভাবনায়, দেবী আরাধনার মধ্য দিয়েই বাংলার নিজস্ব শিল্পধারার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় ঘটানো সম্ভব। তাঁর এই উদ্যোগ ঘিরে স্থানীয় মহলেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আধুনিকতার সঙ্গে পাল্লা না দিয়ে নিজস্ব ঐতিহ্যকে সামনে রেখে দেবজিতের এই প্রচেষ্টা লোকশিল্পের সংরক্ষণে নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দিচ্ছে।
