নিউজপোল ব্যুরো: দুর্গাপুজো মানেই নতুন পোশাক, পছন্দের গয়না আর নিজেকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার প্রস্তুতি। পুজোর কয়েকটা দিন অনেকেই চান সাজে থাকুক বাড়তি জেল্লা। তবে মেকআপ করতে গিয়ে অনেক সময় মুখে অতিরিক্ত প্রসাধনী জমে যায়, বেস হয়ে ওঠে ভারী কিংবা কিছুক্ষণ পরেই দেখা দেয় প্যাচি ভাব। তাই উৎসবের সাজে নজর কাড়তে শুধু দামি মেকআপের সামগ্রী নয়, প্রয়োজন সঠিক পদ্ধতি জানা।
মেকআপের আগে ত্বক প্রস্তুত করাই প্রথম ধাপ
সুন্দর মেকআপের জন্য প্রথমেই ত্বক পরিষ্কার করে নিজের স্কিন টাইপ অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি। এরপর প্রয়োজন বুঝে প্রাইমার লাগানো যেতে পারে। এটি ত্বকের উপর মেকআপ সমানভাবে বসাতে সাহায্য করে এবং বেসের স্থায়িত্ব বাড়াতেও সহায়ক হতে পারে। তবে ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রাইমার বেছে নেওয়া প্রয়োজন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য যে ধরনের পণ্য উপযোগী, শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে তা সবসময় একই রকম ফল নাও দিতে পারে।
কালো দাগ ঢাকতে কাজে আসবে কনসিলর
মুখে ব্রণর দাগ, কালচে ছোপ কিংবা অসম ত্বকের রং থাকলে পুরো মুখে ফাউন্ডেশনের পুরু স্তর লাগানোর প্রয়োজন নেই। বরং যে জায়গাগুলিতে কভারেজ দরকার, সেখানে অল্প পরিমাণ কনসিলর লাগিয়ে আলতো হাতে ব্লেন্ড করে নিতে পারেন। ত্বকের রঙের সঙ্গে মানানসই শেড বেছে নিলে মেকআপ অনেক বেশি স্বাভাবিক দেখায়। একবারে বেশি পণ্য ব্যবহার না করে অল্প অল্প করে কভারেজ বাড়ানোই ভালো।
ভারী বেস নয়, স্বাভাবিক জেল্লায় থাকুক গুরুত্ব
পুজোর দীর্ঘক্ষণ ঘোরাঘুরি, গরম এবং আর্দ্রতার মধ্যে ভারী মেকআপ অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তাই হালকা ফাউন্ডেশন বা স্কিন টিন্ট ব্যবহার করে ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচার বজায় রাখতে পারেন। গালে সামান্য ব্লাশ, পরিপাটি ভ্রু এবং গালের উঁচু অংশে অল্প হাইলাইটার সাজে এনে দিতে পারে সতেজ ভাব। চোখে সফট স্মোকি লুক কিংবা ঠোঁটে উজ্জ্বল লিপস্টিকও হয়ে উঠতে পারে আপনার সাজের বিশেষ আকর্ষণ। তবে অতিরিক্ত পাউডার, কনট্যুর বা একের পর এক প্রসাধনীর স্তর ব্যবহার না করাই ভালো। মুখের যে অংশগুলিতে মেকআপ সহজে উঠে যায় বা তেলতেলে হয়ে পড়ে, প্রয়োজন অনুযায়ী শুধু সেই জায়গাগুলিই সেট করুন।
চুলের যত্নেও থাকুক বাড়তি নজর
পুজোর সাজ সম্পূর্ণ করতে সুন্দর ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুলের গুরুত্বও কম নয়। নিয়মিত শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহারের পাশাপাশি চুলের ধরন অনুযায়ী তেল ব্যবহার করতে পারেন। নারকেল তেল ব্যবহার করলে অল্প পরিমাণে চুল ও স্ক্যাল্পে আলতোভাবে লাগানো যায়। তবে সবার স্ক্যাল্পের প্রয়োজন এক নয়। তাই অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করে নিজের চুলের ধরন বুঝে যত্ন নেওয়া ভালো। চুলে জট থাকলে মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে ধীরে ধীরে আঁচড়ান। খুব টাইট করে চুল বাঁধা এড়িয়ে চলুন, কারণ এতে চুলে টান পড়তে পারে। বাইরে বেরোনোর আগে চুল পরিষ্কার ও পরিপাটি রাখলে উৎসবের সাজেও আসবে বাড়তি আকর্ষণ।
পুজোর সাজে শেষ কথা
দুর্গাপুজোয় সুন্দর দেখানোর জন্য মেকআপের পুরু স্তর প্রয়োজন নেই। বরং ত্বকের উপযোগী প্রসাধনী, সঠিক বেস এবং পরিমিত মেকআপেই তৈরি হতে পারে আকর্ষণীয় লুক। গরমে ঘাম হলে মুখ ঘষে না মুছে আলতোভাবে মুছে নিন এবং প্রয়োজনমতো টাচ-আপ করুন। সবশেষে মনে রাখুন, অন্যের সাজ অনুকরণ করার চেয়ে নিজের মুখের গড়ন, পোশাক ও ব্যক্তিগত পছন্দের সঙ্গে মানানসই মেকআপ বেছে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এতে পুজোর প্রতিটি মুহূর্তে আপনার সাজে থাকবে স্বাভাবিক জেল্লা আর আত্মবিশ্বাস।
