নিউজপোল ব্যুরো: একের পর এক অ্যাপ ক্যাব চালককে নিশানা করার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায়। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই চালককে একই কায়দায় খুনের অভিযোগ উঠেছে তিন জনের বিরুদ্ধে। তদন্তে নেমে প্রথম খুনের সূত্র ধরেই দ্বিতীয় ঘটনার কিনারা করেছে পুলিশ। ধৃত তিন জনকে জেরা করে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের দাবি, গাড়ি ছিনতাই করে বিক্রি করার উদ্দেশ্যেই এই অপরাধের ছক কষা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে অ্যাপ ক্যাব ভাড়া করার অছিলায় এক চালককে গাড়িতে তোলেন অভিযুক্তরা। অভিযোগ, এরপর চালকের পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে তাঁকে খুন করা হয়। পরে গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে গিয়ে ডানকুনির দিল্লি রোডের কাছে চালকের দেহ ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ বেনিয়াপুকুর এলাকা থেকে ওই ক্যাবটি উদ্ধার করে। বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট। তদন্তকারীদের দাবি, ছিনতাই করা গাড়িটি বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল অভিযুক্তরা। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় কেউ গাড়িটি কিনতে রাজি হয়নি। এর পর গাড়ির জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে সেটি বেনিয়াপুকুরে ফেলে রেখে চলে যায় তারা। এই ঘটনাতেই তদন্তের সূত্র ধরে এগোতে থাকে পুলিশ।
এর মধ্যেই মঙ্গলবার গভীর রাতে এন্টালি এলাকায় একই ধরনের আরেকটি অপরাধের অভিযোগ সামনে আসে। পুলিশের দাবি, ওই তিন অভিযুক্ত ফের এক অ্যাপ ক্যাব চালককে নিশানা করে। তাঁকে খুন করে গাড়ি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রথম ঘটনার তদন্তে ধৃতদের পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর দ্বিতীয় খুনের কথা জানতে পারেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, জেরার সময় অভিযুক্তরা এন্টালির ঘটনার কথাও স্বীকার করেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। বিষয়টি কলকাতা পুলিশকেও জানানো হয়েছে। তবে দুই ঘটনার সম্পূর্ণ যোগসূত্র, অপরাধের উদ্দেশ্য এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলছে।
পরপর দুই ক্যাব চালকের মৃত্যুর ঘটনায় চালকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যাত্রী সেজে গাড়ি ভাড়া করে চালকদের নিশানা করা হয়েছিল কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর পুলিশের।
