নিউজ পোল ব্যুরো: শুক্রবার দুপুরে হঠাৎই জোরালো ভূমিকম্পে (Earthquake in Kolkata) কেঁপে উঠল কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা। দুপুর প্রায় ১টা ২২ মিনিট নাগাদ শহর কলকাতার বিভিন্ন এলাকা সহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে কম্পন অনুভূত হয়। হঠাৎ কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বহু মানুষ নিরাপত্তার জন্য বাড়ি ও অফিস থেকে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের মাত্রা (Richter Scale Earthquake) ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৫। জানা গেছে, ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। কম্পনের তীব্রতা তুলনামূলক মাঝারি হলেও শহরের বহু উঁচু বহুতল ভবনে কম্পন বেশি অনুভূত হয়েছে বলে বাসিন্দারা জানান।
আরও পড়ুন : DGCA Guidelines : ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফ্লাইট টিকিট বাতিল বা পরিবর্তনে আর চার্জ নয়! নতুন নিয়ম আনল DGCA
চোখে পড়ার মতো বিষয় হল, দুপুর ১টা ২০ মিনিট থেকে ১টা ২০ মিনিটের মধ্যে পরপর দু’বার কম্পন অনুভূত হয়। কয়েক সেকেন্ড ধরে চলা এই কম্পন (Seismic Tremor) অনেক এলাকায় স্পষ্টভাবে টের পাওয়া যায়। কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে। বহু অফিসকর্মী এবং আবাসনের বাসিন্দারা জানান, প্রথমে হালকা দুলুনি অনুভূত হলেও পরে কম্পন কিছুটা বাড়তে থাকে। অনেকে জানান, আসবাবপত্র কেঁপে ওঠে এবং ঝুলন্ত বস্তু দুলতে দেখা যায়। এতে আতঙ্কিত হয়ে অনেকে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন। এখনও পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝারি মাত্রার এই ভূমিকম্প (Earthquake Update) সাধারণত বড় ক্ষতি করে না, তবে সতর্ক থাকা জরুরি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
ভূমিকম্পের পর বেশ কিছু এলাকায় মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন এবং সামাজিক মাধ্যমে কম্পনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে থাকেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্ত থাকার এবং গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। এদিন কলকাতার পাশাপাশি বারাকপুর শিল্পাঞ্চল ও বাঁকুড়াতেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগেও ৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে দার্জিলিং-সহ উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূমিকম্প হয়, যার কম্পন শিলিগুড়িতেও টের পাওয়া যায়। সেই ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল সিকিমের গ্যালশিং এলাকায়, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি-র তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৫ এবং অল্প সময়ের জন্য এই কম্পন অনুভূত হলেও বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
