নিউজপোল ব্যুরোঃ নোটিস’ এড়ানোয় হ্যাটট্রিক করে অবশেষে ভবানী ভবনে হাজির হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সই জালিয়াতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর শনিবার বিকেলে ভবানী ভবনে পৌঁছন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে চলে জিজ্ঞাসাবাদ, আর রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে রাজনৈতিক মহলের কৌতূহলও।
দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরে প্রথমে নিজের কালীঘাট রোডের বাসভবনে যান অভিষেক। সেখান থেকে সরাসরি ভবানী ভবনের উদ্দেশে রওনা দেন। বিকেল ৫টা ৪৯ মিনিট নাগাদ তিনি CID দফতরে পৌঁছন। তবে ভবনে প্রবেশের সময় একটি ছোট ঘটনা নজরে আসে। প্রথমে ভিজিটর্স বুকে সই না করেই ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন তিনি। পরে নিয়ম মেনে ফিরে এসে সই করে তবেই প্রবেশ করেন। এর আগে একাধিকবার নোটিস পাঠানো হলেও তিনি হাজির হননি। সেই বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পর তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। সেই নির্দেশ মেনেই এবার CID-এর সামনে উপস্থিত হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আপাতত ২১ দিনের অন্তর্বর্তী সুরক্ষা পাবেন বলে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ, এই সময়ের মধ্যে তাঁকে গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ কার্যকর থাকবে, যদি তিনি তদন্তে সহযোগিতা করেন। তবে এই সুরক্ষা স্থায়ী নয় এবং আদালতের শর্তসাপেক্ষ। তদন্তে অসহযোগিতা বা নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।
কী কী প্রশ্ন করা হয়েছে, কী উত্তর দিয়েছেন তিনি, সেই বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে তদন্ত দীর্ঘ সময় ধরে চলায় নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। এই জিজ্ঞাসাবাদ কি মামলার তদন্তে নতুন দিশা দেখাবে, নাকি বিতর্ক আরও বাড়বে— সেই প্রশ্ন এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচ্য বিষয়। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ২১ দিনের আইনি সুরক্ষার পর কী হবে? তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা বজায় থাকবে, নাকি সামনে আসবে নতুন আইনি লড়াই? আদালতের দেওয়া এই রক্ষাকবচের মেয়াদ শেষ হলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের। আদালতের শর্ত মেনে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করলেই মিলবে স্বস্তি, নাকি সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় আইনি লড়াই? এখন নজর তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
