নিউজপোল ব্যুরো: আর কোনও অজুহাত নয়! এবার CID দফতরে হাজিরা দিতেই হবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সই জাল সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিচারপতি কৌশিক চন্দ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ভবানীভবনে CID-এর দফতরে হাজিরা দিতে হবে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে।
আদালতে জানানো হয়, এর আগে একাধিকবার তদন্তকারী সংস্থার নোটিস পাঠানো হলেও বিভিন্ন কারণে হাজিরা এড়িয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কারণে তদন্তের অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়। তিনটি নোটিস এড়ানোর পর এবার আর পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্তে কতটা সহযোগিতা করেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। তদন্তকারীদের সামনে কি খুলবে সব প্রশ্নের জট, নাকি আরও জটিল হবে সমীকরণ? ভবানীভবনের এই হাজিরা কি শুধুই আইনি প্রক্রিয়া, নাকি রাজ্য রাজনীতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা— এখন সেই উত্তর খুঁজছে বাংলা।
শুনানির সময় CID-এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অভিযোগটি সাধারণ কোনও অভিযোগ নয়। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের তরফ থেকেও অভিযোগ জমা পড়েছিল। তাই তদন্ত সম্পূর্ণ করতে অভিষেকের উপস্থিতি প্রয়োজন বলে মত তদন্তকারী সংস্থার।অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীরা আদালতে জানান, তিনি বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন। আজ, ১১ জুন বিকেলেই দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিমানের নির্ধারিত অবতরণের সময় বিকেল ৪টা নাগাদ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখান থেকে সরাসরি ভবানীভবনে CID দফতরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে তাঁকে হাজিরা দিতেই হবে। ফলে বিকেল থেকে বিমানবন্দর থেকে ভবানীভবন— সর্বত্রই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহল ও সংবাদমাধ্যমের। অভিষেকের এই হাজিরা ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে।
তবে আদালত একইসঙ্গে কিছুটা স্বস্তিও দিয়েছে। নির্দেশে বলা হয়েছে, তদন্তে সহযোগিতা করলে আপাতত তিন সপ্তাহ তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারির পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। কিন্তু সেই রক্ষাকবচের শর্ত একটাই— তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। এখন রাজনৈতিক মহলের নজর একটাই প্রশ্নে— আজ সন্ধ্যার মধ্যে ভবানীভবনে পৌঁছে CID-এর জেরার মুখোমুখি হবেন কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়? নাকি এই মামলায় সামনে আসবে আরও নতুন মোড়?
