নিউজ পোল ব্যুরো:আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিকে রাজ্যে হারানোর লক্ষ্য নিয়ে এবার সিপিএম ও কংগ্রেসের কর্মীদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছাতার তলায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানালেন জেলা তৃণমূল সভাপতি এবং কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার (TMC invites Left and Congress)। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একত্রে কাজ করা অপরিহার্য।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/10/12/rajeeb-kumar-vs-cbi-supreme-court-bail-hearing-2025/
জেলা তৃণমূলের উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা ব্লকে আয়োজিত বিজয়া সম্মিলনীর বক্তব্যে অপূর্ব সরকার বলেন,-“কংগ্রেস এবং বামেরা রাজ্যে কখনও ক্ষমতায় আসতে পারবে না। এটাই ভবিষ্যৎ। ওরা যে দু’চার শতাংশ ভোট পায়, তা ভোট কাটাকাটির মাধ্যমে বিজেপির সুবিধা হবে। সাম্প্রদায়িক শক্তির জন্যও এই পরিস্থিতি সুযোগ তৈরি করবে।”
তিনি আরও বলেন,-“এই কারণেই আমি আহ্বান জানাচ্ছি— বাম-কংগ্রেসের কর্মীরা তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছত্রছায়ায় আসুন। যদি তারা আসেন না, তাদের কিছু ভোট সরাসরি বিজেপির পক্ষে যাবে। তাই সবাই একসাথে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে সুবিধা না দিয়ে তৃণমূলের পাশে থাকুন।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
এবারের আহ্বানের পরই সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি বলেন,-“পুরোটাই বোগাস। এই বাংলায় বিজেপি তো ছিল না, এটা তৃণমূলই এনে দিয়েছে। বিজেপিকে তাড়ালাম, আবার বিজেপিকে তাড়ালাম— নাম ভিন্ন হলেও কাজ একটাই।”
রাজনীতিবিদদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যেহেতু বাম-কংগ্রেসের ভোটের ফলাফল তৃপ্তিকর নয়, তাই নির্বাচনের সময় ভোট কাটাকাটির কারণে বারবার তাদের কর্মীদের ‘টার্গেট’ করা হয়। বিশেষ করে বিরোধী দলনেতাদের আহ্বান দিয়ে ভোট প্রয়োগে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করা হয়। এর আগে ভোটের আগে বিজেপি ও তৃণমূল দু’পক্ষই বাম-কংগ্রেস কর্মীদের ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে (TMC invites Left and Congress)।
এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল নেতৃত্বও একই কৌশলকে কার্যকর করার পথে। জেলার বিজয়া সম্মিলনীর মাধ্যমে তৃণমূল নেতারা বার্তা দিচ্ছেন— সাম্প্রদায়িক শক্তির সুবিধা যাতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই বাম-কংগ্রেস কর্মীদের তৃণমূলের ছাতার তলায় আনার প্রচেষ্টা।
অপূর্ব সরকারের এই আহ্বান রাজনৈতিক মহলে সরগরম হয়ে উঠেছে। একদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট বিভাজন রোধ করতে তৃণমূলের এই পদক্ষেপ, অন্যদিকে বাম-কংগ্রেসের নেতারা এটিকে “বোগাস” বলছেন। রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের আগে এ ধরনের প্রচেষ্টা সাধারণ হয়ে উঠছে।
