Saradha chit fund case:রাজীব কুমার বনাম সিবিআই: ছ’ বছর পর সুপ্রিম কোর্টে উঠছে মামলা,শুনবেন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:ছয় বছর পর ফের নড়াচড়া সারদা মামলায় (Saradha chit fund case)। রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের মামলা সোমবার উঠছে সুপ্রিম কোর্টে। ২০১৯ সালে কলকাতা হাই কোর্ট রাজীবকে আগাম জামিন দিয়েছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় সিবিআই। সোমবার প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় ও বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চে মামলাটি শুনানির তালিকায় রয়েছে বলে আদালত সূত্রে খবর।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/10/12/odisha-father-seeks-to-move-daughter-from-durgapur-assault-case/

সুপ্রিম কোর্টের তালিকা অনুযায়ী, মামলাটি সোমবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এক নম্বরে রয়েছে। ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর হাই কোর্ট রাজীব কুমারকে আগাম জামিন দেয়। তিন দিনের মধ্যেই সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সিবিআই যায় সুপ্রিম কোর্টে। ওই বছর ৪ অক্টোবর মামলা দায়ের হয়। এরপর ২৫ ও ২৯ নভেম্বর আদালতে দুটি শুনানি হয়। দ্বিতীয় শুনানির দিন রাজীবকে নোটিস পাঠায় সুপ্রিম কোর্ট, যা তিনি পান ২০ ডিসেম্বর। এর পর কয়েকটি আবেদন জমা পড়লেও মামলা কার্যত স্থগিত অবস্থাতেই ছিল এতদিন।

সারদা চিটফান্ড মামলার (Saradha chit fund case) প্রাথমিক তদন্ত করেছিল রাজ্য সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। সেই দলের সদস্য ছিলেন তৎকালীন বিধাননগর পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার। ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট ওই মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেয়। তদন্তে নেমে সিবিআইয়ের অভিযোগ ছিল, রাজীব তদন্তে সহযোগিতা করছেন না, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিকৃত করেছেন যাতে প্রমাণ নষ্ট হয়ে যায়। যদিও রাজীব কুমার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং জানান, তিনি পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন— এমনকি শিলংয়ে পাঁচ দিন ধরে (মোট ৪০ ঘণ্টা) সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদেও অংশ নিয়েছেন।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট রাজীবকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেয়, যা ওই বছরের মে মাসে প্রত্যাহার করে আদালত। একই সঙ্গে নির্দেশ দেয়, তিনি চাইলে আগাম জামিনের আবেদন করতে পারবেন। সেই অনুযায়ী রাজীব হাই কোর্টে যান।

সিবিআইয়ের দাবি ছিল, রাজীব প্রভাবশালী ব্যক্তি, জামিনে থাকলে তদন্ত বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা প্রয়োজন। পাল্টা যুক্তিতে রাজীবের আইনজীবীরা বলেন, তিনি বারবার সহযোগিতা করেছেন, তাই হেফাজতের প্রয়োজন নেই।

হাই কোর্টের তৎকালীন বিচারপতি শহিদুল্লাহ মুন্সি ও বিচারপতি শুভাশিস দাশগুপ্তের বেঞ্চ রাজীবকে আগাম জামিন দেয়। রায়ে বলা হয়, রাজীবকে ইতিমধ্যেই বহুবার জেরা করা হয়েছে, কোনও নতুন তথ্য মেলেনি, তাই হেফাজতের প্রয়োজন নেই। তবে জামিনের শর্ত হিসেবে আদালত জানায়— রাজীবকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে, এবং ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস পেলে সিবিআইয়ের কাছে হাজিরা দিতে হবে।

এই রায়কেই চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় সিবিআই। প্রায় ছয় বছর পর সোমবার আবার সেই মামলাটি শুনানি পেতে চলেছে— এবার সরাসরি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে।