দিনের পর দিন, সময়ের স্রোতে ধুলোয় মিশে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস? প্রকাশ চিক বরাইকের পদত্যাগে সাংসদ সংখ্যা নেমে ১০-এ।

breakingnews রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: পরপর সাংসদের পদত্যাগ, একের পর এক নেতার দূরত্ব তৈরি— রাজ্য রাজনীতিতে জোরালো হচ্ছে নতুন প্রশ্ন। রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা আরও কমল। দলের রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইক পদত্যাগ করায় নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ তিনি দেশের উপরাষ্ট্রপতি ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি. পি. রাধাকৃষ্ণনের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর ইস্তফার ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ১৩ থেকে কমে ১০-এ এসে দাঁড়িয়েছে।

উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে প্রকাশ চিক বরাইককে তৃণমূলের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে দেখা হত। দলের তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। ২০২৩ সালে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার কেন্দ্র থেকেও প্রার্থী করা হয় তাঁকে। যদিও সেই নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করতে পারেননি। দলীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তরবঙ্গে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনায় প্রকাশ চিক বরাইককে সামনে রেখে এগোতে চেয়েছিল তৃণমূল। এমনকী চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা ছিল। কিন্তু সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়নি। এই অবস্থায় তাঁর হঠাৎ পদত্যাগ স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তবে কেন তিনি সাংসদ পদ ছাড়লেন, সে বিষয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।

চলতি সপ্তাহেই তৃণমূলের আরও দুই রাজ্যসভার সাংসদ পদত্যাগ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সুখেন্দুশেখর রায় এবং সুস্মিতা দেব। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল প্রকাশ চিক বরাইকের নাম। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই পরপর তিন সাংসদের পদত্যাগে স্বাভাবিকভাবেই চাপের মুখে পড়েছে দলের সংসদীয় শিবির। একাংশের মতে, রাজ্যসভায় এই ধারাবাহিক পদত্যাগ তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। যদিও দলীয় নেতৃত্বের তরফে এখনও এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। এখন প্রশ্ন একটাই— প্রকাশ চিক বরাইকের এই পদত্যাগ কি শুধুই সাংসদ পদ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ, নাকি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে আরও বড় কোনও সমীকরণের ইঙ্গিত লুকিয়ে রয়েছে? সেই উত্তর খুঁজতেই নজর এখন রাজনৈতিক মহলের।