অভিষেকের ‘সেবাশ্রয়-২’ ক্যাম্পে গাইডবই দেখে চিকিৎসা? ম্যানুয়াল-কাণ্ডে তুলকালাম, নিশানায় অভিষেক

breakingnews অপরাধ আইন রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: কোন রোগ এলে কী ওষুধ দিতে হবে? কতবার খাওয়াত হবে সেই ডোজ? সবটাই আগে থেকে ছকা এক টুকরো নোটে! মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকের গাইড বইয়ের মতো চিকিৎসা জগতের জন্যও নাকি বানানো হয়ে গিয়েছিল ফিক্সড ম্যানুয়াল। আর সেই গাইডলাইন বা সহায়িকা মেনেই চলত রোগী দেখা। ফলতার ‘সেবাশ্রয়-২’ ক্যাম্প থেকে সেই ম্যানুয়াল উদ্ধার হতেই চরম শোরগোল শুরু হয়েছে চিকিৎসা মহলে। প্রশ্ন উঠছে, অনভিজ্ঞ বা ইন্টার্ন ডাক্তারদের দিয়েই কি তবে এভাবে ছকে বাঁধা প্রেসক্রিপশন লেখানো হচ্ছিল?

বাইরে থেকে দেখলে কোনোভাবেই একে অস্থায়ী ক্যাম্প বোঝার উপায় নেই। সার সার চেম্বার, প্রতিটি দরজার ওপর পরিষ্কার করে লেখা বিভাগের নাম— ইএনটি, ডার্মাটোলজি, গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি কিংবা অর্থোপেডিক। কোনো বড় সরকারি বা নামীদামি বেসরকারি হাসপাতালের ইনডোরকে টেক্কা দেওয়ার মতো পরিকাঠামো। অ্যান্টি-চেম্বার থেকে শুরু করে আধুনিক সাজসজ্জা— আয়োজনের কোনো খামতি ছিল না। কিন্তু বিতর্কের আগুন জ্বলে উঠেছে এই ঝাঁ-চকচকে চেম্বারগুলির ভেতর থেকে পাওয়া কিছু তথাকথিত ‘চিকিৎসা-সহায়িকা’র নথি সামনে আসতেই।

দুই পাতার সেই স্পর্শকাতর নথিতে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে কোন বিভাগের রোগী এলে ঠিক কোন ওষুধ প্রেসক্রাইব করতে হবে। প্রথম পাতায় লেখা ‘জেনারেল মেডিসিন অনলি ফর মেডিক্যাল ক্যাম্প’। পরের পাতায় রাখা হয়েছে মডেল ক্যাম্পের ওষুধের পুরো তালিকা। নিউরো, হার্ট কিংবা চর্মরোগ— যে সমস্যার রোগীই আসুন না কেন, নির্দিষ্ট তালিকা দেখে ওষুধ আর তার ডোজ লিখে দেওয়াই ছিল নাকি নিয়ম! এমনকী ইএনটি বা অন্যান্য চেম্বারেও একই কায়দায় গাইড বই দেখে চিকিৎসা চলত বলে অভিযোগ। চিকিৎসা ব্যবস্থার এমন অবাক করা নিয়ম দেখে কার্যত হতবাক খোদ চিকিৎসকমহলও।