Nirmala Sitharaman:আন্দোলন দমনের চেষ্টা হয়নি, পুনর্মূল্যায়ন শেষ করেই পদত্যাগ ধর্মেন্দ্রর: নিট ইস্যুতে নির্মলা সীতারামন!

রাজনীতি

নিউজ পোল ব্যুরো:কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরদিনই নিট-সংক্রান্ত দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলন নিয়ে কেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। রবিবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকার কখনওই ছাত্রদের গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ দমনের চেষ্টা করেনি; বরং নির্ধারিত নিয়ম মেনেই আন্দোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। একইসঙ্গে নিজের জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) ছাত্রজীবনের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি তরুণ সমাজের প্রতিবাদী মনোভাবকে স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন:Suvendu Adhikari:ধর্মতলা কাণ্ডে ‘বিদেশি শক্তি’ তত্ত্ব, সাংবাদিক নিগ্রহে কড়া অবস্থান শুভেন্দুর!

সীতারামনের বক্তব্যে উঠে আসে, প্রতিটি প্রজন্মই অন্যায়, অনিয়ম কিংবা প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে দ্রুত, কার্যকর এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রত্যাশা করে। তাঁর মতে, তরুণদের এই প্রত্যাশা অযৌক্তিক নয়; বরং গণতান্ত্রিক সমাজে তা স্বাভাবিক। তিনি বলেন, সরকার এই আন্দোলনকে কখনওই হালকাভাবে নেয়নি কিংবা প্রশাসনিক শক্তি প্রয়োগ করে তা দমনের চেষ্টা করেনি। বরং এই ঘটনাপ্রবাহ সরকারের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা—শাসনব্যবস্থাকে সর্বদা জনমতের কাছাকাছি থাকতে হবে এবং সাধারণ মানুষের উদ্বেগ, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের মনোভাব, সময়োপযোগীভাবে অনুধাবন করতে হবে।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ বিলম্বিত হওয়ার কারণ সম্পর্কেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর সরকারের অগ্রাধিকার ছিল অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করা, পরীক্ষা পুনর্মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পুনরায় পরীক্ষা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করা। তিনি দাবি করেন, শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ধর্মেন্দ্র প্রধান সেই প্রশাসনিক দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেন এবং পুনর্মূল্যায়ন, পুনঃপরীক্ষা ও ফলপ্রকাশের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেন।

সীতারামনের যুক্তি, যদি তদন্ত ও পরীক্ষার বিকল্প ব্যবস্থা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব ত্যাগ করতেন, তবে তা পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের প্রতি দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচায়ক হতো। তাই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেই তাঁর পদত্যাগ করা অধিকতর দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole

বক্তব্যের এক পর্যায়ে নতুন প্রজন্ম, বিশেষ করে ‘জেন-জি’-র সঙ্গে সরকারের যোগাযোগের ভাষা নিয়েও আত্মসমালোচনামূলক মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি স্বীকার করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে তরুণদের ভাষা, অভিব্যক্তি এবং প্রতিবাদের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে সরকারেরও জনসংযোগের ভাষা আরও সহজ, বোধগম্য ও সময়োপযোগী হওয়া প্রয়োজন।

তবে একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, সরকারের প্রতিটি সরকারি বক্তব্যের আইনি তাৎপর্য রয়েছে। তাঁর কথায়, প্রশাসনের প্রকাশ্য মন্তব্য পরবর্তীকালে আদালতের বিচারিক পর্যালোচনার মুখোমুখি হতে পারে। সেই কারণে সরকার চাইলেও অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ, অস্পষ্ট বা অনানুষ্ঠানিক ভাষা ব্যবহার করতে পারে না; প্রতিটি বক্তব্যকে আইনি মানদণ্ডে টিকে থাকার উপযোগী করেই প্রকাশ করতে হয়।

প্রসঙ্গত, নিট পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ব্যাপক ছাত্র আন্দোলন চলার পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। সেই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে, সরকার ছাত্রসমাজের ক্ষোভকে গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করেছে এবং ভবিষ্যতে জনমুখী প্রশাসনিক সংবেদনশীলতা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তাও উপলব্ধি করছে।