নিউজপোল ব্যুরো : দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির আবেগ, ভালোবাসা আর ঘরে ফেরার এক চিরন্তন গল্প। ঢাকের আওয়াজ, কাশফুলের দোলা, শিউলির সুবাস আর মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী দর্শনের অপেক্ষা—এই সবকিছুর মধ্যেই মিশে থাকে বাঙালির শিকড়ের টান। সেই আবেগকে আরও নতুন রূপে তুলে ধরতে এবার দুর্গাপুজোকে ঘিরে বিশেষ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার।
মহালয়ার সন্ধ্যায় কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ৩,০০০ ড্রোনের আলোকছটায় ফুটে উঠতে পারে দুর্গাপুজোর নানা অনুষঙ্গ। সঙ্গে থাকবে চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নবান্ন সূত্রে খবর, নতুন সরকারের আমলে এবারের দুর্গাপুজোকে স্মরণীয় করে তুলতেই এই বিশেষ উদ্যোগের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মহালয়া বাঙালির কাছে শুধুমাত্র একটি দিন নয়, দেবীপক্ষের সূচনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গভীর অনুভূতি। ভোরের বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী শোনা থেকে শুরু করে নতুন জামার গন্ধ, প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘুরে বেড়ানো—সব মিলিয়ে দুর্গাপুজো বাঙালির জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটলে এবারের মহালয়া পেতে পারে এক অন্য মাত্রা।
এবার দুর্গাপুজোর কার্নিভাল না হলেও বিজয়া সম্মিলনী হবে অভিনব আঙ্গিকে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ২৬ তারিখে পুজো কমিটিগুলিকে নিয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সেখানে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বিখ্যাত খাবারের স্টল থাকবে। গতানুগতিক ক্যাটারিংয়ের বদলে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের নিজস্ব খাবার তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে, মহালয়ার ভোরে পিতৃতর্পণের সময় গঙ্গার ঘাটগুলিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ বাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে কলকাতার বাবুঘাট, আহিরীটোলা ঘাট, জাজেস ঘাট, নিমতলা ঘাট ও বাজা কদমতলায়। পাশাপাশি, ঐতিহ্যবাহী রেডিওর বড় প্রতিকৃতিও তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে মহালয়া থেকে বিজয়া সম্মিলনী—একাধিক নতুন আয়োজনের মাধ্যমে পুজো আরও আকর্ষণীয় করে তোলার প্রস্তুতি চলছে।
