অভিষেকের মামলায় দিল্লির দরবারে মেগা কম্পন! দলত্যাগী ২০ সাংসদকে মাত্র ৭ দিনের চূড়ান্ত সময় দিল লোকসভা

breakingnews রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: তৃণমূল ছেড়ে অন্য রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যাওয়া ২০ সাংসদকে ঘিরে এবার আইনি লড়াই আরও জোরালো। তাঁদের সাংসদপদ বাতিলের দাবিতে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মামলার পর সুপ্রিম কোর্টে বিষয়টি গড়িয়েছে। আদালতের নোটিসের পর এবার সক্রিয় হয়েছে লোকসভা সচিবালয়ও। ২০ সাংসদকে চিঠি পাঠিয়ে তাঁদের বক্তব্য জানাতে বলা হয়েছে বলে দাবি সূত্রের।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের মূল বিষয় ছিল, তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত হওয়ার পর ২০ সাংসদ দল ছেড়ে অন্য রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যোগ দেওয়ায় তাঁদের সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই সাংসদদের পদ খারিজ করা যায় কি না, সেই বিষয়েই আইনি পদক্ষেপ করা হয়। মামলায় লোকসভার স্পিকার, জেনারেল সেক্রেটারি এবং সংশ্লিষ্ট ২০ সাংসদকে পক্ষ করা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি পৌঁছনোর পর সংশ্লিষ্ট সাংসদদের উদ্দেশে নোটিস জারি হয়। এরপরই লোকসভা সচিবালয়ের তরফে নতুন পদক্ষেপ সামনে এসেছে। চিঠিতে ২০ সাংসদকে অভিষেকের পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে সেই জবাব দিতে হবে বলে জানা যাচ্ছে।

এই ঘটনায় দলত্যাগ-বিরোধী আইনও ফের আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। কোনও সাংসদ দল পরিবর্তন করলে তাঁর সদস্যপদ নিয়ে কী ধরনের সাংবিধানিক ও আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি এবং আইনের প্রয়োগের উপর। তাই শুধু অন্য দলে যোগ দিলেই সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়—এমন সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। তবে রাজনৈতিক দিক থেকে এই মামলার গুরুত্ব যথেষ্ট। একদিকে রয়েছে ২০ সাংসদের ভবিষ্যৎ, অন্যদিকে সংসদে তাঁদের অবস্থান এবং দলত্যাগ সংক্রান্ত বিধি নিয়ে বড় প্রশ্ন। লোকসভা সচিবালয়ে তাঁদের বক্তব্য জমা পড়ার পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।

এখন সাত দিনের সময়সীমাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ২০ সাংসদের জবাব কী, লোকসভা সচিবালয় সেই বক্তব্য কীভাবে বিবেচনা করে এবং সুপ্রিম কোর্টে মামলার পরবর্তী শুনানিতে কী হয়—এই তিনটি বিষয়েই নজর থাকবে। ফলে তৃণমূলের বিদ্রোহী ২০ সাংসদকে ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই এবার আদালতের গণ্ডি পেরিয়ে সংসদীয় প্রক্রিয়ার দিকেও এগিয়ে গেল।