নিউজ পোল ব্যুরো: সিএএ (CAA) আবেদনকারীদের ভোটাধিকার নিয়ে এবার প্রশ্ন তুললেন খোদ বিজেপির (BJP) এক বিধায়ক। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অনুযায়ী যাঁরা সম্প্রতি আবেদন করেছেন, তারা আদৌ আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। সূত্রের খবর, গত বুধবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার -এর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই বিষয়টি ওঠে।
আরও পড়ুন: Election Commission: ভোটার তালিকায় আর ‘মৃত নাম’ নয়! আধার তথ্যেই মিলবে আসল-নকলের ফারাক
উত্তরবঙ্গের এক বিজেপি বিধায়ক বৈঠকে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন— “CAA-তে যারা আবেদন করছেন, তাঁরা সকলে আমাদের (BJP) ক্যাম্পে আসছেন ঠিকই, কিন্তু যদি তাঁরা ভোটার তালিকায় (Voter List) নাম না তোলাতে পারেন, তাহলে ২০২৬ সালের (Election 2026) ভোটে অংশ নেবেন কীভাবে?” তিনি আরও জানান, “যারা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন, তাদের যদি ভোট দেওয়ার অধিকারই না মেলে, তাহলে আমাদের ভোটে জেতা তো দূরের কথা, এলাকায় ফিরতেও সমস্যা হবে।” বৈঠকের সময় রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব আশ্বস্ত করেন যে, গোটা বিষয়টি সম্পর্কে দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অবগত। তাদের তরফে শীঘ্রই কোনও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা আসবে বলে জানানো হয়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
প্রসঙ্গত, বিজেপি বিধায়কের এই প্রশ্ন নতুন নয়। এর আগেই ‘আত্মদীপ’ নামে একটি সংগঠন একই বিষয়ে জনস্বার্থ মামলা করেছিল কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। তাদের দাবি ছিল, যাঁরা CAA-তে আবেদন করেছেন, তাদের দেওয়া রসিদ যেন SIR -এর ক্ষেত্রে বৈধ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়, যাতে তারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। তবে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এই মামলা খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, “একই নির্দেশ সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করা যায় না। প্রত্যেকের পরিস্থিতি আলাদা। তাই পৃথক মামলায় বিচার সম্ভব।” ফলে আদালতের রায় কার্যত কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপির (BJP Leadership) মধ্যে নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই— নাগরিকত্বের আবেদনকারীরা (CAA Applicants) যদি আগামী ভোটে ভোট দিতে না পারেন, তাহলে বিজেপির সমর্থনভিত্তি (Voter Base) কতটা প্রভাবিত হবে? এই নিয়েই এখন সরগরম রাজনৈতিক মহল।
