নিউজপোল ব্যুরো: উত্তর কলকাতা ও শহরতলির যাত্রীদের জন্য অবশেষে এল বড় খবর। বছরের পর বছর ফাইলের পাতায় আটকে থাকার পর এবার বরাহনগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্পে নতুন করে গতি আসতে চলেছে। কলকাতা পুরনিগমের তরফে বি.টি. রোড বরাবর প্রস্তাবিত পিঙ্ক লাইন মেট্রো করিডরের জন্য নো অবজেকশন সার্টিফিকেট বা NOC দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই প্রকল্পের সামনে থাকা অন্যতম বড় জট অনেকটাই কাটল বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত এই মেট্রো চালু হলে বরাহনগর থেকে ব্যারাকপুরের মধ্যে যাতায়াত অনেক সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে বি.টি. রোডে যানজট নিত্যদিনের সমস্যা। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী—হাজার হাজার মানুষ এই রাস্তার উপর নির্ভরশীল। মেট্রো চালু হলে সড়কপথের উপর চাপ কমার পাশাপাশি যাতায়াতের সময়ও কমতে পারে।
প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেট্রো করিডরের অনুমোদন হয়েছিল ২০১০ সালে। কিন্তু অনুমোদনের পরও নানা কারণে প্রকল্পটি এগোয়নি। সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছিল পানীয় জলের পাইপলাইন ঘিরে। বি.টি. রোডের নীচে থাকা বড় দুটি পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পানীয় জল উত্তর কলকাতা ও শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকায় পৌঁছয়। মেট্রো নির্মাণের সময় পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে জল সরবরাহে বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে—এই আশঙ্কাতেই প্রকল্পটি দীর্ঘদিন জটিলতার মধ্যে ছিল। এবার সেই সমস্যার বিকল্প ব্যবস্থার কথাও সামনে এসেছে। মেট্রোর কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পানীয় জল সরবরাহ যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, তার জন্য পৃথক নতুন জল পরিবহণ পাইপলাইন তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে পুরনো সমস্যার একটি কার্যকর সমাধানের পথ খুলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পে কলকাতা পুরনিগমের NOC পাওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, উত্তর শহরতলিতে দ্রুত ও আধুনিক গণপরিবহণ ব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মেট্রো চালু হলে যাত্রীদের সুবিধার পাশাপাশি বি.টি. রোডের যানজটও অনেকটা কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পিঙ্ক লাইনের এই অংশটি মূলত উড়ালপথে তৈরি হওয়ার কথা। অর্থাৎ মাটির নীচে নয়, মাথার উপর দিয়েই ছুটবে মেট্রো। প্রস্তাবিত রুটে মোট ১১টি স্টেশন থাকছে—বরাহনগর, কামারহাটি, আগরপাড়া, পানিহাটি, সুখচর, সোদপুর, খড়দহ, টাটা গেট, টিটাগড়, তালপুকুর এবং ব্যারাকপুর।
