নিউজপোল ব্যুরো: একই উৎসব, অথচ তাকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। তখনই কিছু বাঙালির কাছে মহিষাসুর বধ অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে দেবী দুর্গার জয়ের প্রতীক। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের কিছু অসুর জনজাতির মানুষের কাছে এই কাহিনির ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের লোকবিশ্বাসে মহিষাসুরই ‘হুদুড় দুর্গা’—এক বীরের প্রতীক, যাঁকে তাঁরা নিজেদের পূর্বপুরুষ হিসেবে স্মরণ করেন।
উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ির কয়েকটি চা-বাগান এলাকায় অসুর জনজাতির বসতি রয়েছে। মাঝেরডাবরি ও ক্যারন চা-বাগান সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী এই সম্প্রদায়ের একাংশের কাছে দুর্গাপুজোর দিনগুলির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। অতীতে বহু পরিবার এই সময় উৎসব থেকে দূরে থাকতেন। কোথাও কোথাও ঘরের দরজা বন্ধ রাখা কিংবা কালো কাপড় টাঙিয়ে রাখার রীতির কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এই প্রথার পিছনে রয়েছে তাঁদের নিজস্ব মৌখিক উপাখ্যান। অসুর জনজাতির একাংশের বিশ্বাস, মহিষাসুরের পরাজয় তাঁদের পূর্বপুরুষের পরাজয়ের স্মৃতি বহন করে। তাই যে ঘটনাকে অন্যরা বিজয় হিসেবে উদ্যাপন করেন, সেটিকেই তাঁরা শোকের স্মৃতি হিসেবে দেখেন। তবে এই ব্যাখ্যা জনজাতির লোকবিশ্বাসের অংশ; একে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে দেখার মতো নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে অসুর জনজাতির জীবনযাত্রাও। নতুন প্রজন্মের কেউ কেউ পুরনো রীতিনীতি বজায় রেখেও দুর্গাপুজোর সামাজিক উৎসবে অংশ নিচ্ছেন। ফলে একদিকে রয়েছে পূর্বপুরুষের স্মৃতি ও নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়, অন্যদিকে রয়েছে বদলে যাওয়া সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা।
মহিষাসুরকে ঘিরে এই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি মনে করিয়ে দেয়, পুরাণের কোনও একটি কাহিনিই সব সম্প্রদায়ের কাছে সমান অর্থ বহন করে না। লোকবিশ্বাস, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের এই বৈচিত্র্যকে বোঝা বাংলার বহুমাত্রিক সমাজকে জানারই একটি পথ
