১ দিনে ৩৫টি শিবির থেকে ১৬০০ ইউনিট রক্ত গায়েব! কলকাতার লাইফ কেয়ারে স্বাস্থ্য দফতরের ঝোড়ো হানা, ৬ ঘণ্টার তল্লাশিতে মিলল জাল নথি

breakingnews অপরাধ আইন কলকাতা

নিউজপোল ব্যুরো: রক্তের হিসাব ঘিরে এবার আরও চাপে কলকাতার বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক লাইফ কেয়ার। রক্ত ও প্লাজমা পাচারের অভিযোগের তদন্তে ফের এন্টালির শাখায় অভিযান চালাল স্বাস্থ্য দফতর। প্রায় ছ’ঘণ্টা ধরে চলে তল্লাশি। অভিযানের পর একাধিক নথি খতিয়ে দেখে তদন্তকারীদের নজরে এসেছে রক্ত সংগ্রহের পরিমাণ নিয়ে বড় প্রশ্ন। স্বাস্থ্যভবন সূত্রের দাবি, একটি মাত্র দিনে ৩৫টি রক্তদান শিবির থেকে প্রায় ১৬০০ ইউনিট রক্ত সংগ্রহের তথ্য মিলেছে। কিন্তু এত বিপুল পরিমাণ রক্ত আলাদা করে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের মতো প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ওই ব্লাড ব্যাঙ্কে ছিল কি না, তা নিয়েই এখন তদন্তকারীদের প্রশ্ন। এর আগে থেকেই লাইফ কেয়ারকে ঘিরে তদন্ত চলছিল। রাজ্য ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল বা SBTC-র তরফে বেনিয়াপুকুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি রক্তদান শিবির থেকে রক্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। জুলাই মাসে CIT রোডের শাখাতেও তল্লাশি চালিয়েছিল SBTC। সেই অভিযানে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে দাবি।

তদন্তকারীদের প্রশ্ন আরও বেড়েছে রক্ত ও প্লাজমা অন্য রাজ্যে বিক্রির অভিযোগ ঘিরে। গত কয়েক মাসে কত পরিমাণ রক্ত ও প্লাজমা বাইরে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিনিময়ে কত টাকা লেনদেন হয়েছে, সেই সংক্রান্ত নথি চাওয়া হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। কিন্তু বারবার নথি চাওয়া সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এরপর গত ৬ অগাস্ট এন্টালি ও নিউটাউনের শাখাতেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তদন্ত বন্ধ করার আবেদন নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল লাইফ কেয়ার কর্তৃপক্ষ। তবে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারের তদন্তে বাধা দেয়নি। এরপরই সোমবার অর্থ ও আইন সেলের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে এন্টালির শাখায় ফের পৌঁছন স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা। ব্লাড ব্যাঙ্কের আয়-ব্যয়ের হিসাব, রক্ত ও প্লাজমা বিক্রি সংক্রান্ত নথি-সহ একাধিক কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়।

এদিকে তদন্তে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে বলে দাবি স্বাস্থ্যভবনের। অভিযোগ, বিভিন্ন রক্তদান শিবিরে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তারি পড়ুয়াদের ডিউটিতে পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ম মেনে করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াদেরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বাস্থ্যভবনে ডাকা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।শুধু রক্তের হিসাব নয়, ব্লাড ব্যাঙ্কের পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, ২০২২ সালে লাইসেন্স নেওয়ার সময় যে পরিকাঠামোর কথা দেখানো হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে তার বেশ কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। সেই পরিবর্তন নিয়ম মেনে হয়েছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।