শ্যামল নন্দী, বারাসাত: মাঝেমধ্যেই রাস্তাঘাটে দেখা যায় ওদের। বিশাল চেহারা, তীক্ষ্ণ শিং থাকা সত্ত্বেও স্বভাবে শান্ত। হেলতে দুলতে এক দোকান থেকে অন্য দোকান ঘুরতে থাকে ওরা। কলাটা, মুলোটা, পাউরুটিটা যে যার মতো বাড়িয়ে দেন, ওরা তাতেই খুশি। আবার গিয়ে দাঁড়ায় পরের দোকানে। এলাকাতে ওরা পরিচিত ‘ভোলা’ নামে। ভারতের প্রায় প্রতিটা শহরেই এরকম এক একটা ভোলা থাকে। দীর্ঘদিন ধরে ধরে থাকতে থাকতে এলাকারই একজন সদস্য হয়ে ওঠে ভোলা নামের এই ষাঁড়রা। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারাসাতেও (Barasat News) এরকম এক ভোলা ছিল। যে হয়ে উঠেছিল বারাসাতবাসীর ঘরের লোক। কিন্তু গত ১৯ ফেব্রুয়ারি গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছে সেই ভোলা। শুক্রবার তারই পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন করলেন বারাসাত নাগরিকবৃন্দ।
আরও পড়ুন: Dog Blood Transfusion: ওরাও রক্ত দিতে পারে, স্বাক্ষী থাকল শহর কলকাতা
প্রতিদিনের মত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলেও দোকানে দোকানে ঘুরে ঘুরে খাবার সংগ্রহে বেরিয়েছিল ভোলা। সেই সময় একটি গাড়ি এসে সজোরে ধাক্কা মারে তাকে। পেট ফেটে যায় ভোলার। এলাকার (Barasat News) দোকানদার থেকে পথচলতি মানুষ সকলেই ছুটে আসেন। কিন্তু কিছু করার ছিল না তাদের। পশু হাসপাতাল বা পশু চিকিৎসক কিছু না পাওয়ায় কিছুক্ষণের মধ্যেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সকলের প্রিয় ষাঁড় ভোলা। পুলিশ আটকও করে অভিযুক্ত গাড়ি চালককে।

কেউ দেখছেন ছোট থেকে, কেউ বা দেখছেন বছর পনেরো, কেউ বা এলাকায় (Barasat News) নতুন। কিন্তু ভোলার মৃত্যুতে চোখে জল সবার। সাধারণত দেখা যায় বাড়ির কোন পোষ্য মারা গেলে সেইক্ষেত্রে পারলৌকিক ক্রিয়া কর্ম করেন অনেকে। কিন্তু এভাবে রাস্তার এক ষাঁড়ের জন্য এতকিছু আয়োজন সচরাচর দেখা যায় না। কিন্তু বারাসাতবাসীর কথায় ভোলা তাদের ঘরেরই সদস্য। প্রতিটা মানুষের মনে সে রয়ে যাবে। তাই নন্দী মহারাজের শেষকৃত্যও সম্পন্ন হয়েছে সম্মানের সঙ্গে। উপস্থিত ছিলেন বারাসাতের পৌর প্রধান স্বয়ং। ক্রেনে করে ভোলার দেহ তুলে নিয়ে গিয়ে দাহ করে এলাকার লোকজন।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/
এদিন ভোলার আত্মার শান্তি কামনায় নরনারায়ণ সেবার আয়োজনও করে বারাসাত নাগরিকবৃন্দ (Barast News)। সন্ধ্যাবেলা নাগাদ হরিনাম সংকীর্তনেরও আয়োজন করা হয়েছে। চলে গেছে ভোলা কিন্তু বারাসাতবাসীর হৃদয়ে চির অমলিন হয়ে থেকে যাবে সে।