নিউজ পোল ব্যুরো: পুজোর আর হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাকি। চারদিকে চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা ও মণ্ডপ নির্মাণের কাজ। কিন্তু এর মাঝেই মালদহ জুড়ে তৈরি হয়েছে প্রবল উদ্বেগ। অভিযোগ, কলকাতার (Kolkata) বাসিন্দা বলে পরিচয় দেওয়া এক মণ্ডপ শিল্পী (Pandal Artist) সুদীপ্ত পাল তার পুরো দল নিয়ে হঠাৎ উধাও হয়ে গিয়েছেন। এর জেরে পাঁচটি বড় বাজেটের (Big Budget Puja) পুজো কমিটি কার্যত বিপাকে পড়েছে।
আরও পড়ুন: Lettuce : কীভাবে রান্নাঘরের ছোট্ট পরিসরে লেটুস চাষ করবেন রইল টিপস
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুদীপ্ত পাল মালদহের (Malda Puja) বালুচর কল্যাণ সমিতি, দিলীপ স্মৃতি সংঘ, বিএস রোড বেলতলা ক্লাব, কুতুবপুর হিমালয় সংঘ এবং কৃষ্ণপল্লি কল্যাণ সংঘের থিম পুজোর (Theme Puja) বরাত নেন। প্রতিটি ক্লাবই নামী ও চেনা। অভিযোগ, সুদীপ্ত শুরুতেই মোট প্রায় ২০ লাখ (20 Lakh Advance) টাকা অগ্রিম নেন। কারও কাছ থেকে ৬.৫ লাখ, কারও কাছ থেকে ৫ লাখ, আবার কারও কাছ থেকে ৪.৫ লাখ টাকা নিয়েছিলেন তিনি। কাজ সময়মতো শেষ হবে বলেও আশ্বাস দেন। সেই অনুযায়ী পুজো উদ্যোক্তারা নিশ্চিন্ত ছিলেন।
কিন্তু কয়েকদিন আগেই সুদীপ্ত ও তার টিম হঠাৎ হোটেল থেকে উধাও হয়ে যান। জানা গিয়েছে, তারা যে হোটেলে থাকছিলেন, সেখানকার বিল (Hotel Bill Fraud) পর্যন্ত মেটানো হয়নি। এর পরেই পুজো কমিটির কর্তারা খোঁজখবর শুরু করে জানতে পারেন, সুদীপ্ত আসলে কোথায় থাকেন তা নিয়েই রয়েছে ধোঁয়াশা। কখনও তিনি নিজেকে যাদবপুর (Jadavpur) তো কখনও বেহালার (Behala) বাসিন্দা বলে দাবি করতেন। তাঁর কথাবার্তা শুনে সবাই ভেবেছিলেন তিনি অভিজ্ঞ শিল্পী (Experienced Artist)। তাই বেশি খোঁজখবর নেওয়া হয়নি।এখন সমস্যা দাঁড়িয়েছে, এত অল্প সময়ে নতুন মণ্ডপশিল্পী এনে থিমের (Theme Mismatch) সঙ্গে মিল রেখে কাজ করানো কার্যত অসম্ভব। এক পুজো কমিটির সম্পাদক অমিতাভ শেঠ বলেন, “আমাদের এখন স্থানীয় শিল্পীদের হাত-পা ধরে কাজ করাতে হবে। তবে থিমের সঙ্গে মিল আর থাকবে না।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
বর্তমানে পাঁচটি পুজো কমিটি সুদীপ্ত পালের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ (Fraud Case) দায়ের করেছে। পুলিশও (Police Investigation) তদন্তে নেমেছে। দুর্গাপুজোর (Durga Puja) আগে এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে শহরের উদ্যোক্তাদের মধ্যে। প্রতিবার থিম ও মণ্ডপের জন্য রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে দর্শক ভিড় জমান। কিন্তু এই ঘটনায় মালদহের পাঁচটি বড় বাজেটের পুজোতে দর্শকদের হতাশ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতি (Financial Loss) হয়েছে, অন্যদিকে উদ্যোক্তারা পড়েছেন সময়ের চাপে। এখন প্রশ্ন একটাই শেষ মুহূর্তে কি মণ্ডপের (Puja Mandap) কাজ পূর্ণ হবে, নাকি মালদহের পুজো দেখতে আসা দর্শকরা পাবে অর্ধসমাপ্ত চিত্র?
