নিউজ পোল ব্যুরো: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। ভোটের তিন দিন আগে থেকেই বাইক চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে (Bike Restriction), যা ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক (Election Commission)। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court)। সেই মামলার শুনানিতে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। বিচারপতি এদিন সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, কেন এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল এবং তার যৌক্তিকতা কী। তিনি বলেন, ‘অযৌক্তিকভাবে সব কিছু থামিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ আদালতের নির্দেশ, এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি জানিয়ে আগামীকাল হলফনামা জমা দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission)।
শুনানির সময় বিচারপতি আরও বলেন, যদি পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক হয়, তবে কেন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হচ্ছে না। তার মন্তব্য, ‘দু’দিন আগে থেকে ইমারজেন্সি ঘোষণা করে ভোট করান। তা না হলে ধরে নিতে হবে প্রশাসন ব্যর্থ।’ সাধারণ মানুষের চলাচল ও দৈনন্দিন জীবনে এই ধরনের বিধিনিষেধের প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও যুক্তি দেন, শুধু বাইক বন্ধ করে দিলে সমস্যার সমাধান হবে না। তিনি বলেন, ‘তাহলে গাড়িও বন্ধ করে দিন। সেগুলোতেও তো অস্ত্র নিয়ে গোলমাল করা সম্ভব।’ পাশাপাশি তিনি জানতে চান, গত পাঁচ বছরে বাইক ব্যবহার করে কত অপরাধের ঘটনা ঘটেছে এবং কতগুলি FIR দায়ের হয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই ধরনের নির্দেশ আসলে প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা। বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘নির্বাচনের সময় কমিশনের বিশেষ ক্ষমতা থাকলেও তা অপব্যবহার করা যায় না।’ তার মতে, ২৪ ঘণ্টার জন্য কিছু বিধিনিষেধ মানা যেতে পারে, কিন্তু ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তা চাপিয়ে দেওয়া নাগরিক অধিকার হরণের সামিল। পুলিশ, সিসিটিভি ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপস্থিতিতে এত কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত। পুরো বিষয়টি এখন আদালতের নজরে, এবং কমিশনের জবাবের উপরই নির্ভর করছে পরবর্তী সিদ্ধান্ত।
