Monteswar electricity protest:মন্তেশ্বরে বিদ্যুৎ সঙ্কটে চাষে ধসের আশঙ্কা, সাত দফা দাবিতে রাস্তায় নেমে ক্ষোভে ফুঁসছেন কৃষকরা!

রাজনীতি

নিউজ পোল ব্যুরো:ভরা চাষের মরসুমে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠল পূর্ব বর্ধমান জেলার মন্তেশ্বর ব্লকের মাঝেরগ্রাম অঞ্চল (Monteswar electricity protest)। ধানের চারা রোপণের এই সন্ধিক্ষণে বিদ্যুৎ দপ্তরের ‘একতরফা’ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কার্যত গণবিক্ষোভের রূপ নিল কৃষকদের প্রতিবাদ।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/03/01/kanksa-congress-wall-writing-solo-fight-bengal-2026/

রবিবার মন্তেশ্বর (Monteswar electricity protest) বিধানসভার অন্তর্গত দেওয়ানগদী বাজার সংলগ্ন এলাকায় ‘কৃষি ও কৃষক বাঁচাও সংগ্রাম কমিটি’-র আহ্বানে আয়োজিত এক সভায় এলাকার শত শত কৃষক শামিল হন। অভিযোগ উঠেছে যে, দেওয়ানগদী এলাকায় কোনো আগাম বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই বহু চাষির সাবমারসিবল পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়েছে দপ্তর। বর্তমানে যখন জমিতে জলের অভাবে রোয়া ধানগাছ শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, ঠিক সেই চরম সংকটকালে দপ্তরের এই পদক্ষেপকে ‘অমানবিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে কৃষকরা (Bengal farmer agitation) তাঁদের ক্ষোভ উগরে দিয়ে মূলত সাত দফা দাবি প্রশাসনের সামনে তুলে ধরেন। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি হলো, কোনো টালবাহানা না করে অবিলম্বে বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগগুলি পুনরায় চালু করতে হবে এবং আন্দোলনের জেরে কৃষকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত তথাকথিত ‘মিথ্যা মামলা’ দ্রুত প্রত্যাহার করে নিতে হবে। এছাড়াও তাঁরা অভিযোগ করেছেন যে, দীর্ঘ দিন ধরেই চাষিদের ‘ভুতুড়ে’ বা অস্বাভাবিক হারে বিদ্যুৎ বিল পাঠিয়ে হয়রান করা হচ্ছে। এই হয়রানি বন্ধ করে কৃষি বিদ্যুতের বার্ষিক বিল ৭,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকার মধ্যে নির্দিষ্ট করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

কৃষকদের মতে, বর্তমান অগ্নিমূল্যের বাজারে চাষের খরচ যেভাবে বাড়ছে, তাতে প্রতি কুইন্টাল ধানের সরকারি সহায়ক মূল্য ৩,০০০ টাকা নির্ধারণ করা এবং ন্যায্যমূল্যে পর্যাপ্ত সারের জোগান নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন। সমাবেশ থেকে এই হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে যে, বকেয়া বিল বা অন্য কোনো কারিগরি অজুহাতে কৃষি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা চলবে না। দপ্তরের এই কড়া মনোভাবের ফলে কৃষিজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎ দপ্তর বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে আগামী দিনে এই আন্দোলন আরও বৃহত্তর ও তীব্র আকার ধারণ করবে বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন সংগ্রাম কমিটির নেতৃত্ব। আপাতত বিদ্যুৎহীন পাম্প আর শুকনো জমি নিয়ে এক বুক দুশ্চিন্তায় প্রহর গুনছেন মাঝেরগ্রামের অন্নদাতারা।