BJP Parivartan Sankalp Yatra West Bengal:পরিবর্তনের ডাক চিনাকুড়ি থেকে, রাজ্য সরকারকে নিশানায় দিলীপ-অন্নপূর্ণা!

রাজনীতি

নিউজ পোল ব্যুরো:কুলটি বিধানসভার অন্তর্গত চিনাকুড়িতে বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’র (BJP Parivartan Sankalp Yatra West Bengal) সূচনা ঘিরে রবিবার রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে ওঠে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে আয়োজিত এই জনসভা কার্যত বিজেপির শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় নেতা দিলীপ ঘোষ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী। দু’জনেই রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে একযোগে তীব্র আক্রমণ শানান এবং ‘পরিবর্তন’-এর ডাক দেন।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/03/01/monteswar-electricity-protest-farmers-seven-point-demand-east-burdwan/

সভামঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ রাজ্যের শিল্প পরিস্থিতিকে সামনে এনে শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁর অভিযোগ, একসময় শিল্পসমৃদ্ধ পশ্চিমবঙ্গে আজ কলকারখানার চিমনি নিভে গিয়েছে। বাম আমলে শিল্পক্ষেত্রে কিছুটা স্থবিরতা এলেও বর্তমান সরকারের আমলে তা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “যেখানে আগে চিমনি থেকে ধোঁয়া উঠত, সেখানে এখন তালা ঝুলছে। কারখানা বন্ধ, কাজ নেই—যুবসমাজ আজ চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছে।”

তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থানের অভাবে রাজ্যের বহু যুবক-যুবতী ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার অনেকেই হতাশা থেকে ভুল পথে চালিত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেন তিনি। সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “এই পরিস্থিতির গুরুত্ব যদি এখনই না বোঝেন, তাহলে আগামী দিনে নিজের পরিবার ও ভবিষ্যৎকে বড় বিপদের মুখে ঠেলে দেবেন।”

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

শুধু শিল্প বা কর্মসংস্থান নয়, রাজ্যের সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার উপরেও প্রশ্ন তোলেন বিজেপি নেতা। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, নিয়োগ দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের কারণে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, এই অসন্তোষই আগামী নির্বাচনে শাসকদলের বিরুদ্ধে জনরোষে পরিণত হবে।

ভোটার তালিকা প্রসঙ্গেও এদিন সরব হন দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, এতদিন গঙ্গার পাড়বর্তী এলাকায় বেআইনি ভোটারদের উপর নির্ভর করেই শাসকদল নির্বাচন জিতেছে। কিন্তু এবার নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় বহু ‘ভুয়ো নাম’ বাদ পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিশেষ করে ভবানীপুরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে এই প্রভাব পড়েছে বলে তাঁর মন্তব্য। “এবার আর জালিয়াতি করে জেতা যাবে না”—স্পষ্ট ভাষায় এমনই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

অন্যদিকে, জনসভায় আসার পথে সাধারণ মানুষের ভিড় এবং উচ্ছ্বাসের কথা উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী রাজ্যে ‘পরিবর্তনের হাওয়া’ (BJP Parivartan Sankalp Yatra West Bengal) বইছে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “রাস্তার দু’ধারে মানুষের যে ঢল দেখেছি, তা প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন চায়। এই জনসমর্থনই আগামী দিনে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র জনপ্রিয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ এবং স্বচ্ছ প্রশাসনের প্রতি আস্থা রেখেই মানুষ বিজেপির দিকে ঝুঁকছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যে দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতায় সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। সেই কারণেই এই সরকারকে বিদায় জানাতে মানুষ প্রস্তুত বলে দাবি করেন তিনি।

সভা থেকে বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন শুধুমাত্র ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং তা ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনতার লড়াই’। পরিবর্তনের ডাক দিয়ে তারা রাজ্যের মানুষের কাছে সমর্থন চায় এবং দাবি করে যে, এই নির্বাচনেই শাসকদলকে জবাব দেবে বাংলার মানুষ।