নিউজ পোল ব্যুরো:পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত অবনতিশীল পরিস্থিতি কার্যত গোটা আরব দুনিয়াকে বারুদের স্তূপে পরিণত করেছে। ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাত এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই-এর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অস্থিরতায় গভীর উদ্বেগে ভারত। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে রবিবার রাতেই রাজধানী নয়াদিল্লি-তে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির জরুরি বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা যাচ্ছে, সংঘাতের জেরে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া হাজার হাজার ভারতীয়কে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা এখন কেন্দ্রের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
গুজরাত, রাজস্থান ও দক্ষিণ ভারতের নির্ধারিত কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে রবিবার রাতেই দিল্লিতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠকে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। এই বৈঠকে বিদেশ ও প্রতিরক্ষা দফতরের শীর্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল উপস্থিত থাকতে পারেন বলে সূত্রের খবর।
ভারতের উদ্বেগের অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়। সংঘাতের আবহে এই পথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে, যার বড় অংশ আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে। ফলে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে দেশে পেট্রোপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, আজকের বৈঠকে বিকল্প আমদানি রুট ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বিশদ আলোচনা হতে পারে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কর্মরত লক্ষাধিক ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে তাঁদের দ্রুত দেশে ফেরাতে বিশেষ ‘এয়ারলিফট’ বা উদ্ধার অভিযানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হতে পারে। পাশাপাশি, ভারতের সামুদ্রিক বাণিজ্য সুরক্ষিত রাখতে নৌবাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
খামেনেই-র মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে তৈরি হওয়া শূন্যতা সাময়িকভাবে পূরণ করতে তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তী পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এই পরিষদে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, প্রধান বিচারপতি গোলামহোসেন মোহেসনি এজেই এবং ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ আলিরেজা আরাফি। নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তী নেতৃত্বই দেশের দায়িত্ব সামলাবে বলে জানা গেছে। দেশের ভিতরে শোক, ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক জল্পনার আবহে এই পরিবর্তন ঘটেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ব রাজনীতির এই অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব যে ভারতের অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রবাসী ভারতীয়দের উপর পড়তে পারে, তা স্পষ্ট। ফলে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণই এখন কেন্দ্রের প্রধান অগ্রাধিকার।
