নিউজ পোল ব্যুরো:দিল্লির এক বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপিকাকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় (Delhi Professor Murder Case)। দীর্ঘ তদন্তের পর পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাস নামে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, সম্পত্তি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত দেবস্মিতা পাল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শিবাজি কলেজের অধ্যাপিকা ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার পূর্ব দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভের একটি আবাসন থেকে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। প্রথমে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে দেবস্মিতার দিদি দেবারতি পালের নজরে আসে ঘটনাটি। এরপরই পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বর্ধমান থেকে দিল্লিতে গিয়ে দেবস্মিতার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। অভিযোগ, প্রথমে তাঁর মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয় এবং পরে হাতের শিরা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। ফ্ল্যাটের দরজায় জোরপূর্বক প্রবেশের কোনও চিহ্ন না থাকায় তদন্তকারীদের সন্দেহ হয়, অভিযুক্তরা অধ্যাপিকার পরিচিত ছিলেন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখ ঢাকা অবস্থায় কয়েকজন ব্যক্তি আবাসনে প্রবেশ করে। তদন্তে আরও জানা যায়, অভিযুক্তরা একটি গাড়ি কিছুটা দূরে রেখে হেঁটে ফ্ল্যাটে যায় এবং হত্যাকাণ্ডের পর পোশাক পরিবর্তন করে এলাকা ত্যাগ করে। পরে সেই পোশাকও ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ২০০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পর বর্ধমানের সঙ্গে ঘটনার যোগসূত্র মিলেছে। এরপরই রামপ্রসাদ দাস, তাঁর স্ত্রী বনশ্রী দাস এবং তাঁদের নাবালক পুত্রকে আটক করা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, দেবস্মিতা পালের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত একটি সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। অভিযুক্ত দম্পতি ওই সম্পত্তির একটি অংশে ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করতেন। অভিযোগ, বাড়ি খালি করার জন্য চাপ দেওয়া এবং সম্পত্তি বিক্রির পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়। সেই ক্ষোভ থেকেই প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে খুনের ছক কষা হয় বলে পুলিশের অনুমান।
ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লিতে (Delhi Professor Murder Case) নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
