নিউজপোল ব্যুরো: রাজ্যে বেআইনি রক্ত ও প্লাজমা কারবারের অভিযোগে বড় পদক্ষেপ করল স্বাস্থ্য দফতর। কলকাতার পিপলস ব্লাড ব্যাঙ্কের সমস্ত কাজ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, আপাতত এই বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক আর নতুন করে রক্ত সংগ্রহ বা সংরক্ষণও করতে পারবে না। একইসঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার ২৮টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকেও প্রয়োজনীয় নথি না থাকায় বন্ধের নোটিস দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতরের অভিযোগ, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে প্রায় ৫৭০টি রক্তদান শিবির থেকে ৪২ হাজার ৯০০ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছিল। অভিযোগ, সেই রক্ত থেকে তৈরি হওয়া প্লাজমার একটি বড় অংশ কোনও প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই ভিনরাজ্যে বিক্রি করা হয়েছে। দফতরের দাবি, এই লেনদেনের মূল্য কয়েক কোটি টাকা। অভিযোগের ভিত্তিতে ব্লাড ব্যাঙ্কে গিয়ে পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা। সেখানে গিয়ে তাঁরা রক্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক অনিয়ম দেখতে পান বলে দাবি। অভিযোগ, অনেক রক্ত ও প্লাজমা অবৈজ্ঞানিকভাবে ফ্রিজারে রাখা ছিল। এছাড়া বেশ কিছু ইউনিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে ছিল। ফলে সেগুলি আর ব্যবহার করা সম্ভব হবে না।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরিষেবায় কাটমানি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের চিকিৎসা নিয়ে কোনও ধরনের দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। সেই অবস্থানের পরই এই অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম এলাকায় একাধিক বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নথি পরীক্ষা করে দেখা যায়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ। এরপর ২৮টি কেন্দ্রকে বন্ধের নোটিস পাঠানো হয়। স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, নিয়ম না মেনে কোনও প্রতিষ্ঠান চালানো হলে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
