ডায়মন্ড হারবারে ভুয়ো করোনা টেস্টের বিরাট স্ক্যাম? সরাসরি নিশানায় অভিষেক, তদন্তে এনএমসি

breakingnews অপরাধ আইন রাজনীতি রাজ্য শহর

নিউজপোল ব্যুরো: করোনা মহামারীর ভয়াবহ সময়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে আয়োজিত মেগা ‘কোভিড-১৯ টেস্টিং ড্রাইভ’ নিয়ে বিস্ফোরক জালিয়াতির অভিযোগ উঠল। তৎকালীন এই মেগা ড্রাইভটি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একক উদ্যোগে শুরু হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠে এসেছে, সেখানে নাকি কোনো ট্রেনিং না থাকা অদক্ষ কর্মী ও ডাক্তারদের দিয়ে সাধারণ মানুষের লাখ লাখ টাকার ভুয়ো করোনা পরীক্ষা করানো হয়েছিল। এই মর্মে বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি) সরাসরি জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন বা NMC-এর কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। বিষয়টি হালকাভাবে না নিয়ে এবার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল NMC। কেন্দ্রীয় সংস্থার নির্দেশে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলকে দ্রুত তদন্ত শুরু করতে বলা হয়েছে, যা ঘাসফুল শিবিরের জন্য এক বিরাট অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের ১২ জানুয়ারি। ডায়মন্ড হারবার স্বাস্থ্য জেলায় মাত্র একদিনেই রেকর্ড ৫৩ হাজার ২০৩ জনের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট (RAT) করা হয়েছিল। স্বাস্থ্য দফতরের হিসেব অনুযায়ী, সেদিন গোটা পশ্চিমবঙ্গে যেখানে মোট ৭১ হাজার ৭৯২টি টেস্ট হয়েছিল, সেখানে একাই একটি কেন্দ্রে এই বিশাল অঙ্কের পরীক্ষা হওয়ায় চরম সন্দেহ দানা বাঁধে। সূত্রের খবর, মাত্র ২৬ জন চিকিৎসক দিয়ে কীভাবে একদিনে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের নমুনা পরীক্ষা ও রিপোর্ট তৈরি সম্ভব হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আরও অবাক করা বিষয় হলো, সেই বিশাল পরীক্ষার পরও পজিটিভিটি রেট দেখানো হয়েছিল মাত্র ২.৩১ শতাংশ। বিরোধীদের দাবি, সর্বভারতীয় রাজনীতিতে নিজের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রচার বাড়াতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই রেকর্ড গড়ার নাটক ফাঁদেছিলেন, যা সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সমান।

তদন্তের স্বার্থে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যুক্ত থাকা চিকিৎসকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার জন্য। যদি বিচারে তারা দোষী প্রমাণিত হন, তবে আইন অনুযায়ী তাদের লাইসেন্স চিরতরে বাতিল হতে পারে।