নিউজপোল ব্যুরো: তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার মাত্র চার মাসের মাথায় ঘাসফুল শিবিরের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র তথা বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ চন্দ্রকুমার বসু। সোমবারে পাঠানো একটি সংক্ষিপ্ত চিঠিতে দলীয় নেতৃত্বকে তাঁর এই পদত্যাগপত্র দ্রুত কার্যকর করার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। চিঠিতে দল ছাড়ার পেছনে স্রেফ ‘ব্যক্তিগত কারণ’ কিন্তু ইস্তফা দেওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার অন্ধ তোষামোদ ও আনুগত্য নিয়ে চন্দ্রকুমারের করা একটি পোস্ট রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে নাম না করে বর্তমান দলীয় পরিচালনার কড়া সমালোচনা করে চন্দ্রকুমার বসু লিখেছেন যে, আধুনিক রাজনৈতিক দলগুলি এখন কেবল অন্ধ তোষামোদকারীদেরই পছন্দ করে। সেই সঙ্গে তাঁর আক্ষেপ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্বপ্নের সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক বা ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের আদর্শ থেকে বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব অনেকটাই দূরে সরে গিয়েছে। চন্দ্রকুমারের এই বিস্ফোরক বার্তার পরেই তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও বাক-স্বাধীনতার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধী শিবির।
২০১৬ সালে বিজেপির হাত ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন তিনি এবং সে বছরই ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরবর্তীতে আদর্শগত মতপার্থক্যের কারণে ২০২৩ সালে তিনি গেরুয়া শিবির ত্যাগ করেন। এরপর গত এপ্রিল মাসে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও কীর্তি আজাদের হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে জোড়াফুল শিবিরে যোগ দিয়ে বিজেপিতে যাওয়াকে নিজের ‘ঐতিহাসিক ভুল’ বলে চিহ্নিত করেছিলেন। কিন্তু চার মাস কাটতে না কাটতেই তৃণমূলের সাথেও তাঁর এই আকস্মিক বিচ্ছেদ রাজনৈতিক মহলকে চমকে দিয়েছে। বিশিষ্ট আইনজীবী অমিয় নাথ বসুর পুত্র তথা আইআইএম কলকাতার প্রাক্তনী চন্দ্রকুমার বসুর এই হাইপ্রোফাইল ইস্তফা নিয়ে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব অবশ্য এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখেছে।
