নিউজপোল ব্যুরো: ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশ নিয়ে এবার একেবারে সরাসরি আদালতে মুখোমুখি সংঘাতে জড়াল তৃণমূল এবং রাজ্য সরকার। ঐতিহাসিক ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভার অনুমতি না মেলায় জল গড়াল হাইকোর্ট পর্যন্ত। ঘাসফুল শিবিরের আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে সওয়াল করেন, ভিক্টোরিয়া হাউস না হলে বিকল্প হিসেবে মেট্রো চ্যানেল, ডোরিনা ক্রসিং কিংবা এসপ্লেনেড ইস্টের মতো যেকোনো একটি জায়গায় সভা করার অনুমতি দেওয়া হোক। কিন্তু আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, রাস্তা আটকে এভাবে ধর্মতলার মূল মোড়ে সভা করা সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে বিচারপতি স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ দেন, “ধর্মতলা না আটকে সভা হাজরা-তে করুন।”
একই সাথে বিচারপতি রাজ্যের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তোলেন, ডোরিনা ক্রসিং, এসপ্লেনেড ইস্ট কিংবা বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের মধ্যে যেকোনো একটি জায়গায় সভা করতে দিতে সরকারের সমস্যা কোথায়? বিরোধী শিবিরের সভার উদাহরণ টেনে আদালত বৈষম্যের প্রশ্নও তোলে। আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, এই ৩টি বিকল্প জায়গার মধ্যে ঠিক কোথায় সভার অনুমতি দেওয়া যাবে, তা আজ দুপুর ১২.৩০-এর মধ্যে রাজ্যকে জানাতে হবে।
অন্যদিকে, এই সমাবেশস্থল নিয়ে টানাপোড়েনের মাঝেই কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনারকে একটি কড়া ই-মেল পাঠিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ডেরেক ও’ব্রায়েন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের ই-মেলে বৈঠকের সত্যতা সম্পূর্ণ বিকৃত করা হয়েছে। তৃণমূলের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, এই শহিদ দিবসের পেছনে দীর্ঘ তিন দশকের আবেগ ও রাজনৈতিক ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। ফলে রামলীলা ময়দান বা হাজরা ক্রসিংয়ের মতো বিকল্প জায়গায় সভা করার প্রস্তাব আসলে শহিদ দিবসের মর্যাদার অবমাননা। আগের নির্দিষ্ট করা জায়গাতেই সভার অনুমতি দেওয়ার দাবিতে অনড় রয়েছে তৃণমূল। এখন দেখার, দুপুর সাড়ে ১২টার ডেডলাইনে রাজ্য ঠিক কী অবস্থান নেয়
