“অভিষেক তো এখন মমতার কথাও শোনে না!”— দিদির অসহায়তা হাটে হাঁড়ি ভেঙে দল ছাড়লেন মদন মিত্র!

breakingnews রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পর এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়লেন কামারহাটির হেভিওয়েট বিধায়ক মদন মিত্র। ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ শিবিরের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি যোগ দিলেন ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এ। আজ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরে গিয়ে এই বড় সিদ্ধান্ত নেন তিনি। দলবদলের পর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে মদন মিত্র বলেন, “তৃণমূলেই ছিলাম, তৃণমূলেই রইলাম। শুধু এ ঘর থেকে ও ঘরে গেলাম। ওই ঘরে হয়তো একটা সুখের পালঙ্ক ছিল, আর এই ঘরে একটা খাটিয়া রয়েছে। আমি খাটিয়ার দিকটাই বেছে নিলাম।” এটিকে তিনি বাংলায় বড় রাজনৈতিক ঝড়ের ইঙ্গিত বলে দাবি করেছেন।

নতুন দলে যোগ দিয়েই নাম না করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন মদন মিত্র। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “একজন মানুষের জন্য একটা গোটা জাতকে বিসর্জন দিতে পারি না। দল চালায় দলের সেনাপতি, কিন্তু সেই সেনাপতি দলকে ঠিকমতো চালাতে পারছে না।” মদন মিত্রের দাবি, বর্তমানে কালীঘাটের দলের অন্দরে চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং পুরো দল এখন ভয়ে কাঁপছে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন যে, অভিষেক এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাও শোনেন না, নিজের ইচ্ছামতো দল চালান।

বিদায়বেলায় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি মদন মিত্র। তিনি দীর্ঘদিন পাশে থাকার জন্য দিদিকে ধন্যবাদ জানান। তবে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আজ এই মুহূর্ত থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের ন্যাশনাল কমিটি, চিফ হুইপ, ওয়ার্কিং কমিটি এবং পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি-সহ সমস্ত পদ থেকে তিনি চিরকালের মতো ইস্তফা দিলেন।