নিউজপোল ব্যুরো: রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই নাকি এখন বুক কাঁপছে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের! কখন পুলিশের গাড়ি বাড়ির দরজায় এসে কড়া ব্রেক কষবে আর কখন চকচকে লোহার হাতকড়াটা হাতে গলিয়ে দেবে—এই চরম আতঙ্কেই এখন দিন কাটছে ঘাসফুল শিবিরের ‘যুবরাজ’-এর। প্রতিদিন রাজ্যের কোথাও না কোথাও গজিয়ে উঠছে নতুন নতুন এফআইআর (FIR)। চারদিক থেকে ধেয়ে আসা এই সাঁড়াশি আইনি কামড় থেকে বাঁচতে আজ বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ সকালে তড়িঘড়ি কলকাতা হাইকোর্টে গিয়ে আইনি সুরক্ষার জন্য কার্যত অনুনয়-বিনয় শুরু করে দেয় অভিষেকের জাঁদরেল উকিলদের টিম।
আদালতের এজলাসে দাঁড়িয়ে অভিষেকের দুঁদে আইনজীবী গোপাল শংকরনারায়ণ রীতিমতো অসহায় সুরে সওয়াল করে বলেন, “আমার মক্কেল খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখন সম্পূর্ণ অন্ধকারের মধ্যে রয়েছেন! প্রতিদিন সকাল হলেই তাঁর বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় নতুন নতুন FIR রেজিস্টার করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কতগুলো মামলা ও এফআইআর ঝুলছে, তা খোদ রাজ্যের ডিজিপি (DGP) স্পষ্ট করে আদালতকে জানাক!” মামলার এই সাঁড়াশি গেঁরোয় জর্জরিত সাংসদের আইনজীবীর মুখে এমন বয়ান শুনেই রাজনৈতিক মহলে জোর শোরগোল পড়ে গেছে। শুভেন্দু সরকারের পুলিশ যেভাবে একের পর এক দুর্নীতির ফাইল খুলে অল-আউট অ্যাকশনে নেমেছে, তাতে যেকোনো মুহূর্তে লকআপের গেট খুলে যাওয়ার আতঙ্কে ভুগছেন ভাইপো। তবে হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য আজ এই মামলায় কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, আগামী বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ এই মামলার পরবর্তী মেগা শুনানি হবে, তবে তার আগে অভিষেককে কোনো অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া হচ্ছে না। একই সাথে বিচারপতি মৌখিকভাবে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী শুনানির দিন রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনকে রিপোর্ট দিয়ে খতিয়ান পেশ করতে হবে যে অভিষেকের বিরুদ্ধে ঠিক কী কী ধারায় মামলা চলছে।
আদালতের এই নির্দেশের পর রাজ্যের এএজি বিল্বদল ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, রাজ্য সরকার নির্দিষ্ট দিনেই পুরো রিপোর্ট টেবিলের ওপর জমা দেবে। আগামী বুধবার অর্থাৎ ২২ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত এফআইআর-এর খতিয়ান সম্বলিত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। আপাতত কোর্টের থেকে কোনো রক্ষাকবচ না মেলায় এবং প্রতিদিন মামলার খাঁড়া ঝুলে থাকায় হেভিওয়েট এই তৃণমূল নেতার ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন নজর সেদিকেই।
