নিউজ পোল ব্যুরো:আয়-বহির্ভূত সম্পত্তি ও আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্তে প্রাক্তন বিধায়িকা অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে (Aditi Munshi- Debraj Chakraborty) ঘিরে জটিলতা আরও ঘনীভূত হল। তদন্তে উঠে এসেছে, দেবরাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে নিয়মিত আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বিহারের বেগুসরাই জেলার বাসিন্দা রাম শর্মার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হত বলে অভিযোগ। এই সূত্র ধরেই অভিযান চালিয়ে বাগুইআটি থানার পুলিশ বেগুসরাই থেকে রাম শর্মাকে গ্রেফতার করেছে।
ধৃতকে বারাসত আদালতে পেশ করা হলে আদালত তাঁকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, দেবরাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে রাম শর্মার আর্থিক সম্পর্কের প্রকৃতি কী ছিল এবং তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত অর্থের উৎস ও ব্যবহার কতটা বৈধ ছিল। তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে সম্ভাব্য বেনামি সম্পত্তি ক্রয়, অর্থ পাচার অথবা বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ।
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়িকা অদিতি মুন্সি এবং তাঁর কাউন্সিলর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীকে (Aditi Munshi- Debraj Chakraborty) ঘিরে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। নির্বাচনী হলফনামায় ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ এবং বাস্তব সম্পদমূল্যের মধ্যে অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ হিসাববহির্ভূত সম্পত্তি সঞ্চয়ের অভিযোগও তদন্তের আওতায় এসেছে।
এই প্রেক্ষাপটে দায়ের হওয়া বাগুইআটি থানার এফআইআর নম্বর ২০৭/২০২৬-এ গ্রেফতারির আশঙ্কা দেখা দিলে অদিতি মুন্সি ও দেবরাজ চক্রবর্তী কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। মামলার শুনানিতে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত পর্যবেক্ষণ করেন, “একসময় শাহজাহানের বিরুদ্ধেও কোনও অভিযোগ ছিল না। ক্ষমতার পরিবর্তনের পর একের পর এক অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে।” বিচারপতির এই মন্তব্য আদালত মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতে দাবি করেন, নির্বাচনের আগে অদিতি মুন্সি ও দেবরাজ চক্রবর্তী প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের নামে বেনামিভাবে হস্তান্তর করেছিলেন। অভিযোগ, নির্বাচনী হলফনামায় প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ গোপন রাখার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
শুনানিতে আরও দাবি করা হয়, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট-নির্ভর ব্যবসা এবং জমি দখলের মাধ্যমে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তোলেন ওই রাজনৈতিক দম্পতি। তাঁদের আয় ও সম্পদের উৎস নিয়েও আদালতে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, কালিম্পং-সহ একাধিক স্থানে তাঁদের নামে বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সন্ধান মিলেছে। নির্বাচনের আগে কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ সরিয়ে ফেলার অভিযোগও সামনে এসেছে।
তবে আপাতত স্বস্তিতে রয়েছেন অদিতি মুন্সি ও দেবরাজ চক্রবর্তী। কলকাতা হাইকোর্টের মৌখিক নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৯ জুন পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও গ্রেফতারিমূলক পদক্ষেপ করা যাবে না। ওই দিনই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের নজর।
